শনিবার   ২৫ মে ২০১৯   জ্যৈষ্ঠ ১০ ১৪২৬   ২০ রমজান ১৪৪০

ক্ষমতাশীনরাই অপরাধীদের তালিকায় শীর্ষে

প্রকাশিত: ১০ মে ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বিতর্কিত নেতারা বেকায়দায় রয়েছেন। দীর্ঘদিন দলের পদ-পদবী ব্যবহার করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন তারাই এখন রাজনীতিতে নিস্ক্রীয় হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বিশাল বিশাল শোডাউনসহ দাপটের সাথে রাজনীতি করছেন তারাই। 

 

রাজনীতিতে তারাই অনীহা প্রকাশ করছেন। এরই মধ্যে দাপুটে অনেক নেতার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় আত্মগোপনে চলে গেছেন। আর যারা প্রকাশ্যে রয়েছেন তারা রাজনীতিতে অনেকটা নিশ্চুপ রয়েছে।

 

জানা গেছে, পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে রয়েছেন ক্ষমতাশীন দলের বিতর্কিত নেতারা। জেলায় অপরাধীদের তালিকার শীর্ষে যাদের নাম রয়েছে এরা সকলেই ক্ষমতাসীন দলের নেতা অথবা নেতাদের শেল্টারে থেকে অপরাধমূলক কর্মকান্ড করে আসছিল। টানা তৃতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসায় নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন সেক্টও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ক্ষমতাসীনদের মধ্যেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিলো।

 

জেলায় ভূমিদস্যুতা, মাদক ব্যবসা, তেলচোর, পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি, ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, টেন্ডারবাজীসহ নানা অপকর্মের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের বিতর্কিত নেতারা। এতদিন এসকল বিতর্কিত নেতা দাপটের সাথে এলাকায় দাবড়িয়ে বেড়িয়েছেন তারাই এখন আত্মগোপনে রয়েছেন। পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ইতিমধ্যে ক্ষমতাসীন দলের নেতা শাহ নিজাম, নাজিম উদ্দিন, আব্দুল করিম বাবু, নজরুল ইসলাম, মীর হোসেন মীরু, শাহ আলম গাজী টেনু, আজমত, গিয়াস উদ্দিন, চুন্নু, ভিকি, কামরুল ইসলাম মুন্না, কবির হোসেইন গেড়াকলে পড়েছেন।

 

এছাড়াও আতঙ্কে রয়েছেন জাকিরুল আলম হেলাল, শাহাদাৎ হোসেন সাজনু, মীর সোহেল, মতিউর রহমান মতি, শাহজালাল বাদল, পরিবহন সেক্টরের নেতা আইয়ুব আলী, শরীফুল, সাইফুল্লাহ বাদলসহ শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতা পুলিশের মনিটরিংয়ে রয়েছেন বলে একটি সূত্র থেকে জানা গেছে। 

 

এরা সকলেই বৈধ-অবৈধভাবে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জে অপরাধ বৃদ্ধির নেপথ্যে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের শেল্টার। অপরাধীরা সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত অথবা রাজনীতিকদের শেল্টারে থেকে নানা অপকর্ম করে আসছিল।

 

রাজনৈতিক শক্তির কারণে সাধারণ মানুষ অপরাধীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে সাহস পেতেননা। কিন্তু পুলিশের অভিযানে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেকটা স্বস্তি ফিরেছে। অনেক রাঘববোয়ালের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক পাওয়ারের কারণে অপরাধীরা বেশ দাপুটের সাথে দিন কাটালেও বর্তমানে পাল্টেগেছে দৃশ্যপট।

 

গত ১০ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জকে অপরাধমুক্ত করার ঘোষণা দেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। এরপরই অপরাধীদের বিরুদ্ধে শুরু হয় পুলিশের বিশেষ অভিযান।  অভিযানের শুরুতে ছোটখাট অপরাধীরা গ্রেপ্তার হলেও পরবর্তীতে উঠে আসে রাঘববোয়ালদের নাম। এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জে অপরাধীদের যে তালিকা রয়েছে তার শীর্ষে রয়েঢছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের নাম। তাই বর্তমানে আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ক্ষমতাসীনরা নিশ্চুপ রয়েছে। এবং বিতর্কিতরা আত্মগোপনে চলে যাচ্ছে।

 

তাদের মতে, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের বদলী হওয়ার পরই আবারো প্রকাশ্যে আসবেন। তবে পুলিশ সুপার দীর্ঘস্থায়ীভাবে পেতে চায় নারায়ণগঞ্জবাসী। 
 

এই বিভাগের আরো খবর