শনিবার   ২৪ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৮ ১৪২৬   ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

কোরবানীর পশুর হাটের ইজারা নিলেন হিন্দু নারী

প্রকাশিত: ৭ আগস্ট ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : রূপগঞ্জে সাড়ে ১০ লাখ টাকা সর্বোচ্চ মূল্যে দিয়ে অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা নিয়ে আলোচনা এসেছেন শীলা পাল নামের এক হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী। এবার ১২ স্থানে অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। 


ইজারাদার শীলা পাল উপজেলার ভুলতা এলাকার তপন পালের স্ত্রী ও উপজেলা আওয়ামী মহিলীগের সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া তিনি জেলা পরিষদের সদস্যও। তার সঙ্গে রয়েছেন ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম হারুন অর রশিদ ভুইয়ার স্ত্রী শামীমা সুলতানা ঝিনুক। 


নারায়ণগঞ্জ তথা বাংলাদেশে এই প্রথম কোন হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী কোরবানীর পশুর হাটের ইজরা নিয়েছেন। তাছাড়া যেখানে ভারতে গো হত্যা মহাপাপ হিসেবে দেখছে ভারতে হিন্দু সম্প্রদায় সেখানে কোরবানীর পশুর হাটের ইজারা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছেন শীলা পাল। কারণ তার ইজারাকৃত হাট থেকে শত শত গরু কিনে মুসলিম সম্প্রদায় তা কোরবানী করবে। 


উপজেলা প্রশাসন সুত্র জানায়, কোরবানির ঈদকে ঘিরে এ উপজেলায় ১২টি স্থানে অস্থায়ী পশুর হাটের অনুমোদন দেয়া হয়। প্রতিটি হাটেই নিয়মানুযায়ী সিডিউল বিক্রি করে টেন্ডারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতাদের ইজারা দেয়া হয়। 


তবে, ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের পশ্চিম পার্শের আম বাগান পশুর হাটের সর্ব নি¤œ ইজারা মুল্যে ধরা হয় দুই লাখ টাকা। এ হাটে একাধীক ব্যক্তি দরপত্র জমা দেন। সর্বোচ্চ মুল্যে ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় হাটের ইজারা পান শীলা পাল। ১৫% ভ্যাট ও ৫% আয়কর মুল্যে দিয়ে মোট সাড়ে ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হলে ইজারার অনুমোদন দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম। 


হাটের ইজারাদার শীলা পাল বলেন, এখানে হিন্দু-মুসলমানের মাঝে কোন ভেধাবেদ নেই। ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম হারুন অর রশিদ ভুইয়ার স্ত্রী শামীমা সুলতানা ঝিনুকসহ আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে এলাকাবাসীর সহযোগীতায় হাট বসানো হয়েছে। বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে এখানে পর্যাপ্ত পরিমান পশু উঠেছে। ইতি মধ্যে হাট জমে উঠেছে। পশু ক্রয় করে নিরাপদে নিয়ে যাওয়া ও পশু ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। 


ভুলতা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক বাবুল ভুইয়া বলেন, আমরা সকলেই এ হাটের দায়িত্ব পালন করছি। শুধু হাট নয়, সকল কার্যক্রমে হিন্দু-মুসলমান সকলে মিলেমিলে চালিয়ে যাচ্ছি। 


অস্থায়ী পশুর হাট গুলো হলো, ইউসুফগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন বালুর মাঠ, জনতা উচ্চ বিদ্যালয় বালুর সংলগ্ন মাঠ, পলখান উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন বালুর মাঠ, বেলদি ফাজিল মাদ্রাসা সংলগ্ন বালুর মাঠ, মুড়াপাড়া ডিগ্রি কলেজের আমবাগান, ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের পশ্চিম পার্শের আম বাগান, কায়েতপাড়া শীতলক্ষ্যা ব্রীজ বালুর মাঠ, স্বর্ণখালী বাজার মাঠ ও ভোলাব ইটালিয়ান সিটির বালুর মাঠ, কাঞ্চন বাজার হাট, নোয়াপাড়া বালুর মাঠ ও বরপা বালুর মাঠ। 


পশুর হাট পরিদর্শণকালে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীরপ্রতীক) বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সেতুবন্ধনের এই দেশে আমরা সকল ধর্মের মানুষ ভালো আছি। আমরা একে অপরের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সহযোগীতা করে তা প্রমাণ করে দিয়েছি। আর এ পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তকবায়ন করতে তিনি নিরলস ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।  
 

এই বিভাগের আরো খবর