বুধবার   ১৩ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ২৯ ১৪২৬   ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

কাশীপুরবাসীকে নিয়ে বাবুরাইল খাল উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করলেন আইভী

প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর ২০১৮  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : কাশীপুরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) আওতায় শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ধলেশ্বরী নদী পর্যন্ত বাবুরাইল খালের উন্নয়ন ও সৌন্দর্য বর্ধণ নির্মাণ কাজের করেছেন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। রোববার (৭ অক্টোবর) বিকেলে কাশীপুর ইউনিয়নের আমবাগান এলাকায় এ প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করেন মেয়র।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কাশীপুরে ঘটা করে অনুষ্ঠান করা প্রসঙ্গে মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, এলাকাবাসীর কথা শোনা এবং আপনাদের সকলকে বাবুরাইল খালটিকে আমরা কি করতে যাচ্ছি সেটি জানাতেই এখানে এসেছি।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কাজের সাথে কাশীপুরবাসীকে কেন সম্পৃক্ত করতে চাই। কাশীপুরে আসার কারণ সম্পর্কে মেয়র বলেন এটা দেওভোগ পর্যন্ত করেই শেষ করে দিতে পারতাম কিন্তু সেটি আমার যুক্তিযুক্ত মনে হয়নি। একসময় এই বাবুরাইল খাল খুব সচল ছিলো। যেভাবে খাল বিল দখল হয়ে যাচ্ছে তাতে আমাদের সকলের জন্যই বিপদ ডেকে আনবে।

সিটি করপোরেশনে দ্বিতীয় মেয়াদে পাশ করার আগে নির্বাচনী ঘোষণা সম্পর্কে মেয়র বলেন, নির্বাচনে পাশ করতে পারলে নারায়ণগঞ্জে যত খাল, পুকুর, খেলার মাঠ রয়েছে সেগুলোকে সংরক্ষণ করার চেষ্টা করবো। বাবুরাইল খালটি সংরক্ষণের কাজ পৌরসভার মেয়র থাকতেই শুরু করেছিলাম।

বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর একবার নারায়ণগঞ্জে আসলে আমি তাকে এ খালটি খননের ব্যাপারে প্রস্তাব করি। তখন তারা এ খালখননে যতটাকা অর্থায়নের প্রয়োজন পড়ে সেটি দেবার জন্য রাজি হয়। আজ চার-পাঁচ বছর পর সেটি আমরা ১৮৮ কোটি টাকা প্রকল্পের কাজের মাধ্যমে শুরু করতে পারছি।

এ প্রজেক্টে ক্ষতিগ্রস্থদের সহযোগিতা করার ব্যাপারে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা রয়েছে জানিয়ে মেয়র আইভী বলেন, শীতলক্ষ্যা থেকে মন্ডলপাড়া পর্যন্ত খাল খনন করে দুইপাড় বাঁধাই করে লাইট লাগানোর কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে। ওখানে ক্ষতিগ্রস্থদের টানবাজারে পার্ক মার্কেটে প্রত্যেককে একটি করে দোকান দেবো। জীমখানায় যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তাদের বলেছিলাম আপনাদের ব্যবস্থা আমি করবো।

অনেকে শুনেছেন। তাদের আমি দোকানের ব্যবস্থা করে দেবো। আবার অনেকে দুই-চার জনের কথায় মামলা করে দিয়েছেন। যারা মামলা করেছেন তাদের দোকান ভাঙার ক্ষতিপূরণের টাকা দিলেও বিশ্বাস না করায় তাদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।

খাল সংরক্ষণের ব্যাপারে সরকারের আদেশ রয়েছে। কেউ অবৈধভাবে খাল দখল করতে পারবেনা এমন নির্দেশনা দেয়া আছে। আমি তো আপনাদেরই সন্তান, বোন। আমি তো বলেছি প্রয়োজনে ভাঙার টাকাও দেবো। আমি একশো জন মানুষের জন্য পাঁচলাখ মানুষকে কষ্ট দিতে পারিনা। দখলদারি চলবে না। সিটি করপোরেশনের সকল খাল, পুকুর উদ্ধার করবোই। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রায় ২০০ কোটি টাকার টেন্ডার হয়ে গেছে। নারায়ণগঞ্জ, কদম রসুল, সিদ্ধিরগঞ্জ। কদমরসুলে ৫টি খাল, পুকুর টেন্ডার হচ্ছে। সবগুলোর পুকুরই উদ্ধার করা হবে।

কাশীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম সাইফুল্লাহ বাদলকে এ অনুষ্ঠানে দাওয়াত করা হয়েছে জানিয়ে মেয়র বলেন, প্যানেল মেয়রসহ অনেকে গিয়ে তাকে এ অনুষ্ঠানে থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি যদি এ সরকারেরই একজন হয়ে থাকেন তাহলে এ অনুষ্ঠানে আসলেন না কেন।

কাশীপুরবাসীর স্বার্থেই তাঁর এখানে থাকার কথা ছিলো। বলা উচিত ছিলো আপনি কাজ করেন আমি সহযোগিতা করবো।  মেয়র বলেন, আমি প্রভাবশালীদের দ্বারস্থ না হয়ে সাধারণ জনগণের কাছে বেশি গিয়েছি। বাবুরাইল খাল খননের জন্য সকলেই তাকে সহযোগিতার করবে বলে আশা প্রকাশ করেন মেয়র।

কাশীপুরকে সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভূক্ত করা প্রসঙ্গে মেয়র আইভী বলেন, কাশীপুরকে নাসিকের অন্তর্ভূক্ত করতে কার্যক্রম চলছে। সমস্য হলো উপজেলা চেয়ারম্যান মামলা করে রেখেছেন। সম্প্রসারণের কারণ মন্ত্রণালয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে পাঠানো হয়েছে। এতে করে কাশীপুর, এনায়েতনগর, গোগনগর, ফতুল্লা ও কুতুবপুরের আংশিক নাসিকের আওতায় চলে আসবে। কাশীপুর ইউনিয়ন নাসিকের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার আগেই আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছি।  

সবাইকে বিশ্বাস রাখার আহবান জানিয়ে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, আমি সবসময়ই দল-মত নির্বিশেষে, স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে সকলের কাজ করি। সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে কার কি দলীয় পরিচয় আমার জানার প্রয়োজন নেই। সিটি করপোরেশন হলো জনগণের নিজেদের ট্যাক্সের টাকায় কাজ করে।

মেয়র বলেন, আমি যখন দলীয় ফোরামে গিয়ে দাড়াই তখন আমার দলের কথা বলতেই হবে। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের দল করি।  সেই আদর্শ থেকে আমাকে কেউ সরাতে পারবেনা। যারা অন্যদল করছে তাদের প্রতি সম্মান রেখেই আমি উন্নয়ন কাজ করতে চাই।

নাসিকের কাজ খুবই স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে হয় দাবি করে মেয়র আইভী বলেন, নাসিকের কাজে কোন ঠিকাদার দুই নম্বরী করতে পারেন না। ইঞ্জিনিয়াদের থেকে শতভাগ কাজ বুঝে নিতে না পারলেও ৯০ভাগ কাজ বুঝে নেই। গর্বের সাথে বলতে পারবো নাসিকে ৯০ ভাগ দুর্নীতি হয়না। শতভাগের ব্যাপারে কেউ গ্যারান্টি দিতে পারবেনা। আমি আপনাদের সাথে মিথ্যার আশ্রয় নিতে চাইনা। যতুটুকু পারি আপনাদের ততটুকু আশ্বস্থ করতে চাই।

অনুষ্ঠানে মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী কাশীপুরবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে খাল খনন কাজের সময় বর্জ্য ব্যবস্থা ও রাতে জনগণের চলাচল নির্বিঘœ করতে আলোর ব্যবস্থার জন্য সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করবে বলে জানান।

অনুষ্ঠানে  জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি আব্দুল কাদির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ান, নাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এএফএম এহতেশামূল হক, নাসিক সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র আফসানা আফরোজ বিভা, ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অসিত বরন বিশ্বাস, ১৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কবির হোসাইন, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর শাওন অঙ্কন, সাবেক কাউন্সিলর ওবায়েদুল্লাহ, মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আহমদ আলী রেজা উজ্জ্বল, কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের জেলা সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, বাবুরাইল পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আহমেদ ব্যাপারী, কাশীপুর ইউনিয়নের সমাজ সংগঠক পারভেজ, সালাউদ্দিনসহ কাশীপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, শীতলক্ষা নদী থেকে ধলেশ্বরী নদী পর্যন্ত নাসিকের বাবুরাইল খাল পুনরুদ্ধারসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও শোভা বর্ধনসহ আলোকিকরণ ১৮৮ কোটি ১৩ লাখ ৫২ হাজার ৮৪৩ টাকার প্রকল্পে মোট ৩ কিলোমিটার কাজে মোট প্যাকেজের সংখ্যা ৯টি। যার একটি ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এখানে মোট রাস্তার দৈর্ঘ্য ২ কিলোমিটার যার প্রস্থ হবে ২৩ ফিট।

রাস্তার সাথে থাকবে ৩.৩২ আরসিসি বক্স ড্রেন  এবং  আরসিসি পাইপ ড্রেন থাকবে ২.২৫ কিলোমিটার। খালের উত্তরপাশে ৬.৫ ফুট প্রস্থ ফুটপাত এবং দক্ষিণ পাশে ১০ ফুট প্রস্থ ফুটপাত থাকবে।  বাবুরাইল খাল প্রজেক্টে ৯টি গার্ডার ব্রীজ, মেটাল ফুটওভার ব্রীজ ৮টি থাকবে।

এছাড়া এ মেগাপ্রজেক্টে ৩টি আরসিসি ভিউং ডেক, ৫টি আরসিসি ঘাটলা, ১টি পাবলিক টয়লেট থাকবে। ২০১৯ সালের ১৮ জুলাইয়ে এ প্রজেক্টের কাজ সম্পন্ন করতে মেসার্স রতœা এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স মুনিয়া ট্রেডার্স, বেনিজির কনস্ট্রাকশন এবং দি আজাদ ইঞ্জিনিয়ার্স জেভি কাজ করবে। 

এই বিভাগের আরো খবর