শনিবার   ২৫ মে ২০১৯   জ্যৈষ্ঠ ১০ ১৪২৬   ২০ রমজান ১৪৪০

কাশিপুর কেন অশান্ত ?

প্রকাশিত: ১৪ মে ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : ফতুল্লার কাশিপুরে শফি উল্লাহ শফি ও শাহীন আলমকে নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। গুরু শফি ও শিষ্য শাহিন পুরো কাশিপুরে বিতর্কিত কর্মকান্ড করছে। ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাইফুল্লাহ বাদল দুই ব্যাক্তির মধ্যে দ্বন্ধ নিরসনে তেমন কোন উদ্যোগ নেননি। 

ফলে শফি ও শাহীনের মধ্যে হামলা ও মামলার ঘটনাও ঘটছে। মূলত আধিপত্য বিস্তার নিয়েই দুই গুনধরের মধ্যে চলছে  টানাপোড়ন। যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকাও করছে এলাকাবাসী।  

কাশিপুরের শফিউল্লাহ শফি ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক। এক সময় শাহিন ছিল শফির শিষ্য। শফির মাধ্যমেই শাহিন রাজনীতিতে প্রবেশ করে।  তবে এরই মধ্যে শাহিন বনে যায় কাশিপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি। 

গুরু শফির সাথে পল্টি দেয় শিষ্য শাহিন। এরপরই সে তার তড়ী ভিড়ায় থানা সভাপতি সাইফুল্লাহ বাদলের ঘাটে। শুরু  হয় দুজনের মধ্যে দ্বন্ধ। বেশ কয়েক বছর আগে শফি কমর আলী স্কুল সংলগ্ন একটি ঘাট উপজেলা থেকে ইজারা নিয়েছিলেন। এরই মধ্যে শফিকে পল্টি দিয়ে শাহীন ঐ ঘাটটি নিজেই ইজারা নিয়ে নেয়। 

শুরু হয় গুরু শিষ্যের মধ্যে নতুন উত্তেজনা । এ বছর পুনরায় শফি একই ঘাট নিজের নামে  ইজারা নেয়। এ নিয়ে দুই জনের মধ্যে দ্বন্ধ আরো প্রকাশ্যে চলে আসে। শফির কাছে শাহীন ও তার লোকজন চাঁদা দাবী করে। এমন অভিযোগে সম্প্রতি শফি ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলাও দায়ের করে। 

ঐ মামলায় হাজিরা দিতে গেলে আদালত শাহিন ও তার এক সহযোগীর জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠায়। এ নিয়ে কাশিপুৃরে চলছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তবে অনেক দিন ধরে চলমান শফি ও শাহীনের দ্বন্ধ মেটাতে থানা আওয়ামলীগের সভাপতি সাইফুল্লাহ বাদল তেমন নড়া চড়া করেন না বলেও অভিযোগ করেন ইউনিয়ন ও থানা আওয়ামীলীগের বেশ কয়েকজন নেতৃবৃন্দ।  
  
কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ বলেন,সাইফুল্লাহ বাদল চাইলে অনেক আগেই শফি ও শাহিনের মধ্যে দ্বন্ধ শেষ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি কি কারনে বিষয়টি সমাধানে কোন উদ্যোগ নিচ্ছেন না,তা নিয়েও কাশিপুরে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।  

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন,শফি একজন ক্যামিক্যাল ব্যবসায়ী। আর শাহিন যুবলীগে যোগ দিয়েই ইজি বাইক সেক্টরসহ কাশিপুরের বিভিন্ন সেক্টর দখল করে নিয়েছে। সেখান থেকে অনেক নেতাসহ বিশেষ পেশার পরিচয়ে  বেশ কয়েকজন শাহিনের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে থাকে। তারা সবাই শফিকে কোনঠাসা করে রেখেছে। 

শফিকে ঠেকাতে অনেকেই মিশনে নেমেছে। যদিও শফি থানা আওয়ামীলীগের মুল কমিটিতে রয়েছে। তবুও থানা নেতৃবৃন্দ শফির সাথে বৈরী আচরণ করছে বলেও মনে করেন তারা। 

এব্যাপারে ফতুল্লা থানা আওয়ামলীগের সভাপতি আলহাজ্ব এম সাইফুল্লাহ বাদলের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।  

এই বিভাগের আরো খবর