সোমবার   ২৫ মার্চ ২০১৯   চৈত্র ১১ ১৪২৫   ১৮ রজব ১৪৪০

কালামের ঘোড়ায় জনপ্রতিনিধি ফোরাম, তৃণমূল আ’লীগ ও জাপা 

প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০১৯  

সোনারগাঁ (যুগের চিন্তা ২৪) : সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীক পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম। 

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পরপরই উপজেলার ৭ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, অধিকাংশ মেম্বার ও পৌরসভার কাউন্সিলর, তৃণমূল আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা ঘোড়ার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনা শুরু করেছেন। 

উপজেলা জনপ্রতিনিধি ঐক্য ফোরাম, তৃণমূল আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টি মাহফুজুর রহমান কালামের পাশে থাকায় নির্বাচনী দৌড়ে নৌকার চেয়ে ঘোড়াকেই এগিয়ে রাখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারন ভোটাররা। 

জানা যায়, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার মাঝি হতে চেয়েছিলেন মাহফুজুর রহমান কালাম। উপজেলার তৃণমূল আওয়ামীলীগের ভোটে তার নামটিই মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় সবার উপরে রেখেছিল নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ। 

কিন্তু দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেয়া হয় মোশারফ হোসেনকে। এতে হতাশায় পড়েন আওয়ামীলীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা। এদিকে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ ছাড়া অন্য কোন দলের প্রার্থী না থাকায় তৃণমূল নেতাকর্মীরা মাহফুজুর রহমান কালামের জনপ্রিয়তা প্রমাণের ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। পরে এতে সায় দিয়ে মাহফুজুর রহমান কালাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। 

এদিকে বিগত সংসদ নির্বাচনে মাহফুজুর রহমান কালাম তার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে মহাজোটের প্রার্থী লিয়াকত হোসেন খোকার পক্ষে কাজ করেছেন। 

পক্ষান্তরে মোশারফ হোসেন তার ভাতিজা আব্দুল্লাহ আল কায়সারকে (সিংহ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী) নির্বাচনে রাখতে তার প্রত্যাহারের ঘোষনার আগ মুর্হূত পর্যন্ত প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়েছেন। 

এই সমীকরণকে সামনে রেখেই এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে লিয়াকত হোসেন খোকার নেতৃত্বে জনপ্রতিনিধি ঐক্য ফোরাম ও উপজেলা জাতীয় পার্টি মাহফুজুর রহমান কালামকে সমর্থন দিয়ে মাঠে নেমেছে।  

নৌকার পরিবর্তে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহফুজুর রহমান কালামকে সমর্থন দেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামীলীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা জানান, মোশারফ হোসেন ২০০১ সালে নৌকা প্রতীক না পেয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে গালাগালাজ করেছে। 

নৌকায় লাথি মেরে নৌকা ভেঙেছে, নৌকার তোরণ পুরিয়ে দিয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দল থেকে বহিস্কারও হয়েছে। এছাড়া ২০০৮ সালে ১/১১ এর সময় মাইনাস টু ফর্মুলা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তথাকথিত “সু-শাসনের জন্য সংস্কার” এর নামে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে বিতারিত করার উদ্দেশ্যে জনমত সৃষ্টির লক্ষে সভা সেমিনার করেছে। 

তাছাড়া ২০১৮ সালের ৩০ শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নিবার্চনে দলীয় সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে তার ভাতিজা স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল কায়সারকে নির্বাচনে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছে।   

অন্যদিকে মাহফুজুর রহমান কালাম ছাত্রজীবনে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন করে বারবার হামলা, মামলার স্বীকার হয়েছেন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সারের দাবিতে ১৭ জন কৃষককে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে এবং মাগুরায় ভোট ডাকাতির প্রতিবাদে আন্দোলন করতে যেয়ে বারবার গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেছেন। 

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার ডাকে আন্দোলন করতে যেয়ে রেকার পোড়া মামলার ১ নম্বর আসামি হয়েছেন। থানার এসআই হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি হয়েছেন। ৪টি দ্রুত বিচার মামলার ১ নম্বর আসামি হয়েছেন। পুলিশ বাদী ১৪টি মিথ্যা মামলার আসামী হয়েছেন। 

তাছাড়া ২০০৩ সালে মাহফুজুর রহমান কালামের বৃদ্ধা মা’য়ের বালিশের নিচে ভাঙা পাইপগান দিয়ে মিথ্যা অস্ত্র মামলা সাজিয়ে তাকে মানসিকভাবে কষ্ট দেওয়া হয়েছে। তখনই তিনি ব্রেইন স্ট্রোক করে অদ্যাবধি প্যারালাইসড অবস্থায় মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। 

তাছাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা বিপদ আপদে পড়লে মাহফুজুর রহমান কালামকে পাশে পায়।

মাহফুজুর রহমান কালাম সারা বছর নিজের অর্থ ব্যয় করে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তৃণমূল আওয়ামীলীগ তার পাশে আছে এবং আগামী ৩১ তারিখ তাকে বিজয়ী করেই মাঠ ছাড়বে। 
 

এই বিভাগের আরো খবর