মঙ্গলবার   ২০ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৫ ১৪২৬   ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

কামালে নয় শক্তি বাড়াতে মহানগরে আসছেন আশা

প্রকাশিত: ১৪ মে ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : মহানগর বিএনপির কমিটি দেয়ার দুই বছরেও তেমন কোন সাফল্য অর্জন করতে না পারায় পুরনো সেই কমিটি পুনর্গঠন করে খুব শীঘ্রই পূর্ণাঙ্গ কমিটি আসছে। বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে ১৭১ সদস্য বিশিষ্ট। তবে কমিটির সবচেয়ে বড় চমক আগের কমিটির মতো একচ্ছত্র আধিপত্য দেখাতে পারবেন না মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। তার স্বেচ্ছাচারিতা ও একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জেরে পুরনো কমিটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি বলেও অভিযোগ আছে।

 

তাছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী তাকে নিয়ে নানা মন্তব্য কেন্দ্রেও করেছেন। তাই এবার পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে মহানগর বিএনপির শক্তি বৃদ্ধি করতে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দেখা যেতে পারে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাউসার আশাকে।

 

সূত্র জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও আশাবাদী মহানগর বিএনপির বর্তমান সভাপতি ও সাবেক সাংসদ এড.আবুল কালামের ছেলে আশাকে নিয়ে। কেন্দ্রীয় বিএনপির দুই নেতা জানিয়েছেন, সাবেক এমপির ছেলে হিসেবে নয়, ছাত্র রাজনীতিতে সাংগঠনিক ভূমিকা থাকায় এবং দলের তারুণ্যের আধিপত্য ঘটাতেই আবুল কাউসার আশাকে নিয়ে ভাবা হচ্ছে।

 

জানা গেছে, সম্প্রতি মহানগর বিএনপির কমিটি পুনর্গঠন ও অনুমোদনের বিষয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে মহানগরের নেতৃবৃন্দের সাথে জরুরী সভা করেছে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

 

 সেই সভার ব্যাপারে বিএনপি কেন্দ্রীয় সূত্র জানিয়েছে, জরুরী সভায় মহানগর নেতৃবৃন্দদের দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের মতো ব্যাপারগুলো আর বরদাস্ত করা হবেনা বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে দেয়া হয়। এছাড়া আগামীতে যে কমিটি দেয়া হবে এই কমিটির বাইরে গিয়ে কেউ যদি শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

সূত্র জানায়, চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটিতে এড,আবুল কালামকে সভাপতি, সহসভাপতি এড.সাখাওয়াত হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আবদুস সবুর খান সেন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে এড.আবু আল ইউসুফ, আবুল কাউসার আশা এই লে-অর্ডারে সাজানোর সম্ভাবনাই বেশি। ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির দেয়া কমিটির সাথে উপরের সারির পদগুলোর মধ্যে পার্থক্য খানিকটাই। তবে দুবছর আগে দেয়া ২৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বেশ কজনেরই। অন্তর্ভূক্ত হওয়ার সুযোগও রয়েছে। আর সে কারণেই আরো ২০ জনকে কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত  করা হতে পারে।

 

পূর্বের ২৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি থেকে নিষ্ক্রিয়দের অব্যাহতি দেয়া হবে এমন সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত। দলে বিতর্কিত ভূমিকা রেখেছে এমন লোকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আর এদের মধ্যে মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত হাসেম শকু, দপ্তর সম্পাদক হান্নান সরকার এবং সহসভাপতি আতাউর রহমান মুকুলের বিরুদ্ধে  কেন্দ্র ব্যবস্থা নিচ্ছে এমন সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত।  

 

সূত্র জানিয়েছে, তবে পদোন্নতিও পাচ্ছেন কেউ কেউ। আংশিক কমিটিতে সহ-সাংগঠনিক হিসেবে থাকা মনিরুল ইসলাম সজলকে যুগ্ম সাধারণ সম্পদক, আওলাদ হোসেনকে সাংগঠনিক সম্পাদক এবং কোষাধ্যক্ষ মনিরুজ্জামানকে সহসভাপতি হিসেবে পদোন্নতি দেয়ার সিদ্ধান্তও প্রায় চূড়ান্ত।

 

কমিটি যেভাবেই ঘোষণা হোক না কেন, এটি নিয়ে কোন ধরণের বিশৃঙ্খলা কিংবা বিবাদ সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে বহিস্কারের মতো কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। কেন্দ্রীয় যে কোন কর্মসূচিকে আরো সফল ও বেগবান করতেই এমন সিদ্ধান্ত বিএনপির কেন্দ্রীয়  নেতৃবৃন্দ নিচ্ছে বলে জানিয়েছে সূত্র।

এই বিভাগের আরো খবর