শনিবার   ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৩ ১৪২৬   ০৯ রবিউস সানি ১৪৪১

কাউয়া-মাছি-ব্যাঙ তাড়াতে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতারা

প্রকাশিত: ১৩ নভেম্বর ২০১৯  

যুগের চিন্তা রিপোর্ট : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দীর্ঘদিন থেকে বলে আসছিলেন দলে কাউয়া, হাইব্রীডধারী নেতাদের বিতাড়িত করার ব্যাপারে। সম্প্রতি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাও দলে শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছেন। দল থেকে হাইব্রীড ও বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। 


আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যখন কাউয়া ও হাইব্রীডদের বিরুদ্ধে স্বোচ্ছার হওয়ার আহবান জানিয়েছিলেন ঠিক তখন থেকেই নারায়ণগঞ্জের আদালতপাড়ায় আওয়ামী পন্থী আইনজীবীরা বিষয়টিকে খুব গুরুত্ব সহকারে নেন। তারাই প্রথম আদালতে ‘কাউয়া খেদাও, মাছি খেদাও’ স্লোগানটি আদালতপাড়ায় হাইব্রীডদের বিরুদ্ধে চালু করেন।

 

শুদ্ধি অভিযান চালুর পর সম্প্রতি হুট করে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনও বেশ গুরুত্ব দিয়ে উচ্চারণ করেছেন। 


গত ১২ নভেম্বর বিকেলে নগরীর ২নং রেলগেট আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বাংলাদেশ বাস্তুহারা লীগ নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটির পরিচিতিসভায় আনোয়ার হোসেন বলেন, সুবিধাভোগী, কাউয়া, হিরঞ্চিরা রাজনীতিতে চলে এসেছিলো। শেখ হাসিনা সেটি বুঝতে পেরেছেন।


বর্তমানে সুবিধাভোগী, কাউয়া, ব্যাঙ, হাইব্রীডদের অবস্থা নড়বড়ে। এদের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কোন স্থান নাই। হালুয়া রুটির জন্য, সুবিধাভোগের জন্য যারা দলে এসেছিলেন তাদের সরিয়ে দিয়ে আজ নেত্রী সত্যিকারের রাজনীতিবিদদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। বিতর্কিতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনছেন। আমার পুরো রাজনীতি জীবনে এই চাওয়াটাই ছিলো। নেত্রী সেটিই করছেন। 


আনোয়ার হোসেনের এই ব্যক্তব্যের পর আওয়ামী লীগের প্রকৃত নেতাকর্মীরাও আরও উচ্ছস্বিত। এরপ্রভাব পড়েছে আদালতপাড়ায়ও। আওয়ামী পন্থী আইনজীবীরা আনোয়ার হোসেনের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলছেন, হাইব্রীড, কাউয়া, মাছিদের যন্ত্রণায় আমরা অতিষ্ঠ। আনোয়ার ভাই সাথে যোগ করেছেন ব্যাঙ। এটিও ঠিক। সোজা কথা কাউয়া, মাছিদের দল থেকে বিতাড়িত করতে হবে। 


আদালতপাড়ায় আনোয়ার হোসেনের বক্তব্যে আওয়ামী পন্থী আইনজীবীরা স্বোচ্চার হাইব্রীডদের বিরুদ্ধে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক আইনজীবী বলেন, হাইব্রীড তথা কাউয়া, মাছির বিরুদ্ধে আগে থেকেই স্বোচ্চার আওয়ামী পন্থী আইনজীবীরা। 


বিশেষ করে এড.আনিসুর রহমান দিপু, এড.খোকন সাহা, এড.মাসুদুর রউফ, এড.কামরুল আহসান, এড.এম এ রশীদ ভূইয়া, এড.রফিকুল ইসলাম ভূইয়া, এড.শামসুল ইসলাম ভূঁইয়া, এড.ওয়াজেদ আলী খোকন,  এড.আসাদুজ্জামান আসাদ, এড.মাহমুদা মালা, এড.নুরুল হুদা, এড.আলী আহম্মদ ভূঁইয়া, এড.হাবীব আল মুজাহিদ পলু, এড. সেলিনা ইয়াসমিন, এড.মেরিনা বেগম, এড.নাসিমা হাসনাতসহ আরো অর্ধশত আওয়ামীপন্থী আইনজীবী দল থেকে হাইব্রীড, কাউয়া, মাছি, ব্যাঙ তাড়াতে তৎপর হয়েছেন। 


কেউবা প্রকাশ্যে কেউ গোপনে নানাভাবে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে তথ্য দিচ্ছেন। এব্যাপারে সবাইকে সজাগও করছেন। তাদের ভাষ্য, এসব নব্য আওয়ামী লীগারদের কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নানাভাবে তারা দল ও দলের নেতাকর্মীদের অবজ্ঞা করছেন। এখনই সময় এদেরকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়ার। এবং এরা যাতে কোন নেতৃত্বে থাকা তো দূরের কথা দলের সদস্যপদও যেন না পায় সেব্যবস্থা করা হচ্ছে। কাজও হচ্ছে। 


সম্প্রতি এমনই এক হাইব্রীড নেতা বারবার আওয়ামী লীগের সদস্য হওয়ার চেষ্টা করেও কামিয়াব হয়নি। অনেকের লবিং নিয়েও শেষ পর্যন্ত সে ওই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সদস্য হতে পারেনি। আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের দাবি, এটি চলমান রাখতে হবে। 


এদিকে আনোয়ার হোসেনের বক্তব্যে নড়েচড়ে বসেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা। তারা মহানগরের ভেতরে এবং অঙ্গসংগঠনে ঘাপটি মেরে থাকা হাইব্রীড-কাউয়া-মাছি-ব্যাঙদের সনাক্ত করার কাজ শুরু করেছেন বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। এদেরকে চিহ্নিত করে কেন্দ্রের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্তও পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে খুব সম্প্রতি। কেন্দ্রও অবশ্য এই কাজটি ইতিমধ্যেই তার নিজস্ব আঙ্গিকে শুরু করেছে। 


মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতির বক্তব্যের পর খুব শীঘ্রই জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও এধরণের বক্তব্য আসতে পারে বলে জানিয়েছে আরেকটি সূত্র। সেটি হলে আদালতপাড়ার পর মহানগর আওয়ামী লীগ হয়ে জেলা আওয়ামী লীগের মাধ্যমে হাইব্রীড-কাউয়া-মাছি-ব্যাঙ তথা বহিরাগতদের সনাক্ত ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কাজ পুরো জেলাতেই ছড়িয়ে পড়বে। 


একার্যক্রম ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে বলেই অনেক আওয়ামী লীগ নেতার মত। তারা বলছেন, বিতর্কিতরা বাদ পড়লে কিংবা তাদের ছাঁটাই করা হলে আওয়ামী লীগের প্রকৃত নেতাকর্মীরা মূল্যায়িত হবে। বিতর্কিতদের দলে রাখার কোন সুযোগ নেই। 
 

এই বিভাগের আরো খবর