শনিবার   ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৯ ১৪২৬   ১৬ রবিউস সানি ১৪৪১

কাউয়াদের অবস্থা নড়বড়ে, ভাইবোনের রাজনীতিতে জড়াবেননা : আনোয়ার হোসেন

প্রকাশিত: ১২ নভেম্বর ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : ভাই-বোনের রাজনীতিতে নিজেদের জড়াবেননা বলে সতর্ক করে দিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ভাইয়ের রাজনীতি, কাউয়ার রাজনীতি পরিহার করতে হবে, শেখ হাসিনার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ভাইয়ের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করার জন্য আমি রাজনীতি করিনাই। আপনারাও করবেননা। স্বার্থের রাজনীতি পরিহার করতে হবে।

 

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) বিকেলে নগরীর ২নং রেলগেট আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বাংলাদেশ বাস্তুহারা লীগ নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটির পরিচিতিসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

 

আনোয়ার হোসেন আরো বলেন, নির্বাচনের জেতার পর অনেকেই কর্মীদের ভুলে যান। অনেকে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়ে গিয়েছে। রাজনীতিতে ধান্দাবাজদের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছিলো। সুবিধাভোগী, কাউয়া, হিরঞ্চিরা রাজনীতিতে চলে এসেছিলো। শেখ হাসিনা সেটি বুঝতে পেরেছেন। বর্তমানে সুবিধাভোগী, কাউয়া, হাইব্রীডদের অবস্থা নড়বড়ে। এদের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কোন স্থান নাই। হালুয়া রুটির জন্য, সুবিধাভোগের জন্য যারা দলে এসেছিলেন তাদের সরিয়ে দিয়ে আজ নেত্রী সত্যিকারের রাজনীতিবিদদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। বিতর্কিতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনছেন। আমার পুরো রাজনীতি জীবনে এই চাওয়াটাই ছিলো। নেত্রী সেটিই করছেন। 

 

আনোয়ার হোসেন আরো বলেন,  আমার ইচ্ছা ছিলো জনপ্রতিনিধি, এমপি এমনকি মেয়র হবার। তবে সেটি হতে পারিনা। আমার নেত্রীর দয়ায় আমি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হয়েছি। আওয়ামী লীগ মানেই মানুষের কল্যাণে কাজ করা। মানুষকে ভালোবাসা। আমি আমার রাজনৈতিক জীবনে তাই করার চেষ্টা করেছি। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার জন্য এখন আমাদের সোনার মানুষ প্রয়োজন।

 

প্রধান আলোচক তোফাজ্জেল হোসেন বাবু বলেন, বাস্তুহারা সমিতি ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু নিজে করে দিয়েছিলেন। কিন্তু ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর অনেক বিতর্কিতরা বস্তিবাসীর কাছ থেকে প্রায় ৬ কোটি টাকা আত্মসাত করেছিলো। নেত্রী তাদের চিহ্নিত করে ওইসব দুর্নীতিবাজদের গ্রেপ্তার করেছিলো। তখন এর কার্যক্রম স্তিমিত হয়ে পড়েছিলো। ২০০২ সালে নেত্রী বাস্তুহারা সমিতিকে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাস্তুহারা লীগ নামে অনুমোদন দিয়েছিলেন। সারা বাংলাদেশের বাস্তুহারা মানুষের সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। বস্তিবাসীকে নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নানা খেলা খেলতো। তবে বাস্তুহারা লীগের মাধ্যমে সকল বস্তিবাসীকে আওয়ামী লীগের পতাকাতলে নিয়ে আসা হয়েছে।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জিএম আরমান বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নিয়েছেন তা দেশ বিদেশে প্রশংসা কুড়াচ্ছে। নিজ দলের বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কাউকে ছাড় দিচ্ছেননা। আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোতে অভিযান চালিয়ে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে সৎ ও ভালো লোকদের সামনে এগিয়ে নিয়ে আসার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এখন আওয়ামী লীগ করতে হলে ভালো ও সৎলোক ছাড়া কেউ দলে ঠাঁই পাবেনা।  

 

বাস্তুহারা লীগ নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটির সভাপতি জয়নাল আবেদিন রাজুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ বাস্তুহারা লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জেল হোসেন বাবু, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জিএম আরমান, বাস্তুহারা লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান সাদেক, সহসভাপতি গাজী সাহাবউদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, সাংগঠনিক সম্পাদক মুজাহিদ সরকার জনি, মহানগর যুব মহিলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক নুরুন্নাহার সন্ধ্যা। 
 

এই বিভাগের আরো খবর