সোমবার   ২৫ মে ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ১০ ১৪২৭   ০২ শাওয়াল ১৪৪১

করোনা মোকাবিলায় মাঠে বিএনপি নেতারা, দেখা নেই আ’লীগ নেতাদের

প্রকাশিত: ২৫ মার্চ ২০২০  

যুগের চিন্তা রিপোর্ট : করোনা ভাইরাসে সংকটময় মুহুর্ত্বে পুরো দেশ। সরকার তার সাধ্যমত চেষ্টা করছে করোনার আগ্রাসন থেকে জনগণকে রক্ষা করতে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা দিন কয়েক আগে থেকেই তৃণমূলের নেতাদের বলেছেন মানুষকে সচেতন করার উদ্যোগ নিতে। তবে তাতে সর্ম্পূণ ব্যর্থ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা। তবে করোনা মোকাবেলায় ভিন্ন নজির গড়েছে জেলার কয়েকজন বিএনপি নেতা। মানুষকে বাঁচাতে তাদের আপ্রাণ চেষ্টা সবার নজর কেড়েছে।

 

এই তালিকায় সবার উপরে মহানগর যুবদলের সভাপতি ও নাসিক ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার কথা উঠার সাথে সাথে মার্কেট থেকে যখন স্যানিটারাইজার যখন সম্পূর্ণ উদ্যোগ তখন তিনি তাতে দমে না গিয়ে নিজেই নিজ বাড়িতে উদ্যোগ নেন হ্যান্ড স্যানিটাইজার। সারাদিন-রাতে জেগে স্ত্রী, ছেলে ও আশপাশের লোকজনদের নিয়ে তৈরি করেছেন হ্যান্ড স্যানিটাইজার। এখনো করে চলেছেন। হাজার হাজার স্যানিটাইজারের বোতল মানুষকে দিচ্ছেন। তার ওয়ার্ডের বিভিন্ন জায়গায় হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করেছেন তিনি। এখন উদ্যোগ নিয়েছেন দরিদ্র মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেয়ার।তবে এরজন্য তিনি কোন নগদ অর্থ নিতে রাজি নন। কেউ খাবার কিনে যদি তাকে দিতে বলে সেক্ষেত্রে তা করতে আপত্তি নেই তার।


মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের মত উদ্যোগী মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাসেশ শকু। রিক্সাওয়ালা থেকে শুরু করে এলাকার বিভিন্ন মানুষের কাছে তিনি সুরক্ষায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হেক্সিসল বিতরণ করেছেন। একাজে তাকে তার স্ত্রীও সহযোগিতা করছেন। এছাড়া সম্প্রতি তিনি তার ওয়ার্ডে বাসায় বাসায় খাবার হোম ডেলিভারি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যে কাজও করে যাচ্ছেন।
জনপ্রতিনিধি না  হলেও মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন মহানগর বিএনপির প্রচার সম্পাদক মাকিদ মোস্তাকিম শিপলু। আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীর সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন তিনি। শহরের সকাল থেকে রাত অবদি টানা মাইকিং, লিফলেট, মাস্ক বিতরণ করে যাচ্ছেন তিনি। এছাড়া তার এলাকায় বাবুরাইলেও মানুষকে তিনি সচেতন করছেন।

 

মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুস সবুর খান সেন্টু। বেশ কয়েকদিন আগে তিনি স্ট্রোক করেছেন। দুটো রিং বসানো হয়েছে। তবে করোনায় মানুষকে সচেতন করতে ঘরে বসে থাকেননি তিনি। লিফলেট বিতরণ, মাস্ক বিতরণ করে মানুষকে সচেতন করছেন প্রতিনিয়ত। এছাড়া মানুষকে সচেতন করতে টানা বেশ কয়েকটি মসজিদে মুসল্লিদের বক্তব্য দিয়ে সচেতন করেছে। করোনার আগ্রাসন ঠেকাতে মঙ্গলবার দুটো মসজিদে দোয়ার ব্যবস্থা করেন তিনি।

 

একটু দেরীতে হলেও মানুষকে সচেতন করতে নেমেছেন মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি এড.সাখাওয়াত হোসেন খান। মঙ্গরবার দুপুরে আদালতপাড়ায় করোনা প্রতিরোধে গণসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে মাস্ক ও লিফলেট বিতরণ করেন তিনি।

 

তবে  জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতারা একেবারেই চুপ। যতখানি উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে। জেলায় আওয়ামী পন্থী জনপ্রতিনিধিরা ও দলীয় নেতারা মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে মাঠে নামেননি। তারা সবকিছু দেখভালের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন কেন্দ্র তথা সরকারের উপর। নারায়ণগঞ্জ শহরের বেশ কয়েকটি সামাজিক সংগঠন, গণসংহতি আন্দোলনের কর্মীরাও মানুষকে সচেতন করতে গত সপ্তাহব্যাপী লাগাতার কাজ করে গেছেন, যাচ্ছেন, তবে তাদের হিসেবে যোজন যোজন পিছিয়ে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

এই বিভাগের আরো খবর