শুক্রবার   ২৪ মে ২০১৯   জ্যৈষ্ঠ ১০ ১৪২৬   ১৯ রমজান ১৪৪০

কমেছে সবজির সরবরাহ, বেড়েছে মুরগী-সবজির দাম

প্রকাশিত: ১০ মার্চ ২০১৯  

স্টাফ রির্পোটার (যুগের চিন্তা ২৪) : নগরীর বাজারগুলোতে হঠাৎ করে মুরগী-সবজির দাম বেড়েছে। গত এক মাসের ব্যবধানে মুরগির দাম কেজিতে ২৫/৩০ টাকা বেড়েছে। এ ছাড়া ডজনে ডিমের দামও বেড়েছে ২০ টাকা। মুরগির পাশাপাশি দাম বেড়েছে পাকিস্তানি কক ও লাল লেয়ার মুরগির। মুরগীকে অনুকরন করে বেড়েছে গরুর মাংসের দামও।


এদিকে গত মাসে হঠাৎ ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় প্রচুর সবজি নষ্ট হওয়ায় বাজারে সবজির সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে। যার ফলে অধিকাংশ সবজিই বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। 


রোববার (১০  মার্চ) শহরের দিগুবাবুর বাজারঘুরে দেখা যায়, সবজির দামের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা প্রতি কেজি। উস্তা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। মটরসুঁটি ৬০ টাকা কেজি, সজনে ডাটা ৪০ টাকা কেজি, পটল এবং করলা যৌথ ভাবে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা প্রতিকেজি। 


এছাড়া ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজি, কচুর লতি ৬০ টাকা কেজি, শসা ৩০ টাকা কেজি, শিম ৩০ টাকা কেজি, টমেটো ৩০ টাকা কেজি, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা পিস, লাল-শাক ৩০ টাকা কেজি, ফুলকপি ৬০ টাকা পিস এবং বেগুন ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।


এছাড়া  আলু এবং পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা পাল্লা। আদা ৯০ টাকা কেজি, রসুন ৫০ টাকা কেজি, সয়াবিন তেল খোলা ৮০ থেকে ৮৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।


দ্বিগুবাবু বাজারের সবজি বিক্রেতা মামুন মিয়া বলেন, কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গাতে বৃষ্টি হওয়াতে কৃষকদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে! তাই চাষী’রা পর্যাপ্ত সবজি’র যোগান দিতে পারছে না। যাও আসছে  তা খুবই সীমিত। ফলে দামটা একটু বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে ।  তবে দু’দিন যাবত সবজির দাম অনেকটা কমে আসছে।


এদিকে বয়লার মুরগির দাম বেড়েছে কেজিতে ৩০ টাকা।  বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা দরে। দেশি লাল মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা প্রতিকেজি, পকিস্তানি কক বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা দরে। গরুর মাংস কেজি প্রতি ৫০ টাকা বেড়ে  ৫৫০-৬০০ টাকা কেজি দওে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা প্রতিকেজি দরে।


তবে মাংসের দাম বাড়তি নিয়ে কথা বলতে নারাজ মাংস ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, এরকম একটু আধটু বাড়বেই। এটা কোনো ব্যাপার নয়। তারা এ বিষয়ে কোনো সঠিক জবাব দিতে পারেনি। 


তবে কেউ কেউ বলছেন, মুরগি ও ডিমের উৎপাদন কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে তা কম আসছে। যার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়েছে। ফলে দাম বাড়তি রয়েছে।


মুরগি কিনতে আসা সোহেল বলেন, এক মাস আগে যে মুরগির কেজি প্রতি দাম ছিল ১২০ টাকা। বাড়তে বাড়তে এখন তা ১৫০ এ গিয়ে পৌঁছেছে। এভাবে চলতে থাকলে মুরগির মাংস আর খাওয়া হবে না।


সবজি এবং মাংসের দাম  নিয়ে  ক্রেতা নাজিম বলেন, আসলে সত্য কথা বলতে কি, আমরা সাধারণ মানুষ আগে থেকেই মাছ এবং মাংস খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি।  কারণ প্রচুর দাম বাড়ছে দিনদিন এগুলোর। এখন তো সবজির দামও ...... তবে কি আমরা খাওয়া-দাওয়াই বন্ধ করে রাখবো!


এদিকে আগের জায়গাতেই রয়েছে অধিকাংশ মাছের দাম। তেলাপিয়া ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি, পাঙ্গাস ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা কেজি, রুই ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা, টেংরা ৪০০ থেকে ৫০০, শিং ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি এবং চিতল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা প্রতি কেজি।  
 

এই বিভাগের আরো খবর