বুধবার   ১৭ জুলাই ২০১৯   শ্রাবণ ২ ১৪২৬   ১৪ জ্বিলকদ ১৪৪০

কবি আল মাহমুদের জন্মদিন আজ

প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০১৯  

ডেস্ক রিপোর্ট (যুগের চিন্তা ২৪) : আধুকিব বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদের ৮৪তম জন্মদিন আজ। ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মৌড়াইল গ্রামের  মেল্লাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। সোনলী কাবিন খ্যাত এ কবি চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।


তাঁর মৃত্যুর পর এটাই প্রথম জন্মদিন। আল মাহমুদের জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকায় ও তাঁর জন্মভিটায় পৃথক আনুষ্ঠােেনর আয়োজন করা হয়েছে।


আল মাহমুদ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ও কবি আবিদ আজম জানান, কিংবদন্তি এ কবির জন্মদিন উপলক্ষে রাজধানীর কাটাবনের কবিতা ক্যাফেতে (২৩৪/সি নিউ এলিফ্যান্ট রোড, কাটাবন সিগন্যাল, ঢাকা) আজ বিকাল ৪ টায় ‘আল মাহমুদ উৎসব’র আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে কবি মুহাম্মদ নূরুল হুদা, কবি জাহিদুল হক ও কবি শাহীন রেজাসহ কবির ভক্ত-অনুরাগীরা উপস্থিত থাকবেন।

 

তিনি আরও জানান,  কবির জন্মভিটা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মৌড়াইলে সকালের দিকে কবির কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও ফাতেহা পাঠ করা হবে। পরে সেখানে অধ্যাপক কবি মহিবুর রহিমের সভাপতিত্বে রয়েছে স্মরণানুষ্ঠান। আল মাহমুদ স্মারকগ্রন্থ প্রকাশনা ছাড়াও কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহৎ পরিসরে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনেরও প্রস্তুতি চলছে।

 

পঞ্চাশের দশকে আবির্ভূত সাহিত্যের সব্যসাচী কবি আল মাবহমুদ কবিতা ছাড়াও লিখেছেন উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ, ছড়া, আত্মজীবনী ইত্যাদি। এযাবৎ তার প্রকাশিত শতাধিক গ্রন্থ নিয়ে প্রকাশনা সংস্থা ঐতিহ্য মোট ১৩ খ-ে প্রকাশ করেছে ‘আল মাহমুদ রচনাবলী’। 

 

১৯৬৩ সালে প্রকাশিত হয় আল মাহমুদের প্রথম কবিতার বই ‘লোক লোকান্তর’। এর তিন বছর পর ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত হয় তার আরও দুটি কবিতার বই ‘কালের কলস’ ও ‘সোনালী কাবিন’। এর মধ্যে ‘সোনালী কাবিন’ তাকে নিয়ে যায় অনন্য উচ্চতায়। এ ছাড়া তাঁর  উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলে হলো-‘মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো’, ‘অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না’, ‘একচক্ষু হরিণ’, ‘মিথ্যাবাদী রাখাল’ ইত্যাদি।

 

‘কাবিলের বোন’, ‘উপমহাদেশ’, ‘ডাহুকি’, ‘আগুনের মেয়ে’, ‘চতুরঙ্গ’ ও ‘পোড়ামাটির জোড়া হাঁস’ ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। ‘পানকৌড়ির রক্ত’সহ বেশ কিছু গল্পগ্রন্থও রচনা করেছেন তিনি। কার উল্লেখযোগ্য আত্মজীবনী মূলক গ্রন্থ ‘যেভাবে বেড়ে উঠা’। 

 

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের লিফলেটে কবিতা ছাপা হওয়ার কারণে ফেরারি হওয়া আল মাহমুদ একাত্তরের মুক্তিসংগ্রামে মুজিবনগর সরকার স্টাফ হিসেবে কাজ করেছেন। প্রত্যক্ষ মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতায় তিনি রচনা করেন কালজয়ী দুটি উপন্যাস কাবিলের বোন ও উপমহাদেশ।

 

সৃজনশীল সাহিত্য রচনার জন্য অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন আল মাহমুদ। বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), জয়বাংলা পুরস্কার (১৯৭২), হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৭৪), ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৬), একুশে পদক (১৯৮৭), নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক (১৯৯০), সমান্তরাল (ভারত) কর্তৃক ভানুসিংহ সম্মাননা পদক-২০০৪ সম্মাননা উল্লেখযোগ্য। 

 

তবে লেখালেখির কারণে কবি আল মাহমুদ জীবনব্যাপী মানষের যে ভালোবাসা পেয়েছেন কোনো স্বীকৃতিই তার সঙ্গে তুল্য নয়।