সোমবার   ১৭ জুন ২০১৯   আষাঢ় ৪ ১৪২৬   ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

ওসমান পরিবারের ১১ জন ত্বকীকে হত্যা করে লাশ ফেলে দিয়েছে : রাব্বি

প্রকাশিত: ৮ জুন ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক ও নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি বলেছেন, আমারা দীর্ঘ ৭৫ মাস থেকে ত্বকী হত্যার বিচারের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষ থেকে আলোক শিখা প্রজ্বলন করে আসছি। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো যখন দিনের আলোর মতে স্পষ্ট ত্বকীকে কারা হত্যা করেছে, এর মধ্যে যখন কোন সংশয় নেই। 


যখন তদন্তকারী সংস্থা তারা তদন্ত সম্পন্ন করে জানাল, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের ১১ জন মিলে তাদের একটি টর্চার সেলে ত্বকীকে হত্যা করেছে। তারপর তাদের গাড়িতে করে লাশ ফেলে দিয়েছে। 


কী কারণে হত্যা করেছে, কেন করেছে, কখন কারা কারা করেছে সমস্ত কিছু জানালো। জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করলো। ত্বকী হত্যাকাণ্ডের এক বছরের মাথায় ২০১৪ সালের ৫ মার্চ তারা সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়টি জানালেন। একটা অভিযোগপত্র সরবরাহ করে তারা সাংবাদিকদের জানালেন এবং বললেন এটি আমরা অচিরেই আদালতে পেশ করব।

 

কিন্তু তারই তিন মাস পরে জুন মাসের ৭ তারিখ যখন সংসদে দাঁড়িয়ে আমাদের দেশর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললেন, তিনি এই ওসমান পরিবারের পাশে থাকবেন। তাদের দেখে রাখবেন, তখন থেকে এই ত্বকী হত্যার সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেল।


শনিবার (৮ জুন) সন্ধ্যায় নগরীর আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়ত প্রাঙ্গণে মেধাবী কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার ৭৫ মাস পূর্তি উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে ধারাবাহিক মোমশিখা প্রজ্বলন কর্মসূচীতে তিনি এ সব কথা বলেন। 


সংগঠনের সভাপতি জিয়াউল ইসলাম কাজলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি-কবি ও সাংবাদিক হালিম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি হাফিজুর রহমান, শ্রমিক নেতা আবু নাইম খান বিপ্লব, সমমনার সভাপতি দুলাল সাহা, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি জাহিদুল হক দীপু, গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক তারিকুল সুজন প্রমুখ। 


আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি প্রদীপ ঘোষ বাবু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনি সুপান্থ, শহুরে গায়েনের সমন্বয়ক শাহীন মাহমুদ, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ।


রফিউর রাব্বি  বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে এমন বাংলাদেশ আকাঙ্খা করি নাই। আমরা সেই বাংলাদেশ চেয়েছি যেই বাংলাদেশ জনগণের বাংলাদেশ হবে, আপামর সমস্ত মানুষের বাংলাদেশ হবে, সাধারণ মানুষের, কৃষক শ্রমিকের বাংলাদেশ হবে। তাদের জীবনের নিরাপত্তা থাকবে, বেঁচে থাকার নিরাপত্তা থাকবে, জীবীকা নির্বাহের নিরাপত্তা থাকবে, একই সাথে বিচার ব্যবস্থা থাকবে। 


সমস্ত কিছু ধূলিসাৎ করেছে এই সরকার। আমরা এর নিন্দা জানাই, প্রতিবাদ জানাই, ধিক্কার জানাই। এটিকে আমরা মুক্তিযুদ্ধের সরকার বলতে পারিনা। যতই এই সরকার মুক্তিযুদ্ধের সরকার বলে ফেনা তুলুক না কেন তাদের সমস্ত কর্মকাণ্ড মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে। 


তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি এদশের মানুষ তাদের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত করবে, স্বৈরশাসকদের প্রতারিত করবে, গডফাদারদের সহযোগী এই সমস্ত সরকারের বিরুদ্ধে গণ-অভ্যূত্থানের মধ্য দিয়ে  আমাদের এইদেশে প্রকৃত গণতন্ত্র, প্রকৃত স্বাধীনতা যেমনি আসবে, আমদের দেশের মানুষের মর্যাদা ফিরে আসবে। ঠিক একইভাবে আমদের দেশের সকল হত্যা-খুনের কঠোর বিচার হবে।


দেখে দেখে মুখ চিনে শুধু বিরোধী যারা তাদের বিচার করা, নিজের দলের ঘাতকদের, খুনীদের, হত্যাকরীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে তাদেরর রক্ষা করা বন্ধ হবে আমরা কী তা আশা করি। তারপরও আমরা আশা করি এবং বলতে চাই এই সরকারের উদ্দ্যেশে যে, তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। তারা এই ত্বকীসহ সাগর-রুনী, তনু এবং নারায়ণগঞ্জের চঞ্চল, মিঠু, ভুলুসহ যে সমস্ত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে সে সমস্ত হত্যাকাণ্ডের বিচারের নির্দেশ দিবেন।


প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরীর শায়েস্তা খান রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দু’দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী শাখা খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। 


ওই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে জানায়, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। 


এর পর থেকে ত্বকী হত্যার দ্রুত অভিযোগপত্র প্রদান ও বিচারের দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখ মোমশিখা প্রজ্বলন কর্মসূচী পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।
 

এই বিভাগের আরো খবর