শুক্রবার   ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৯ ১৪২৬   ১৫ রবিউস সানি ১৪৪১

একজন দক্ষ এবং সফল সংগঠকের নাম কেএম সহিদ উল্যা

প্রকাশিত: ২০ নভেম্বর ২০১৯  

এড. মোহাম্মদ কামাল হোসেন : শহিদ উল্যা ভাই’র সাথে আমার পরিচয় ১৯৮১ সালে। তিনি তখন ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। মো.বাচ্চু মিয়া প্রিয় বাচ্চু ভাই তখন মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি।সামরিক জান্তা জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখলের পর ১৯৮১ সালে সামরিক গোয়েন্দাদের দ্বারা তৎকালীন ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ বাবুকে গেস্টাপো কায়দায় তুলে নেয়ার পর অদ্যাবধি কোনো খোঁজ মেলেনি। 


তাই জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসার পর ১৯৮৩ সালে মহানগর ছাত্রলীগের সম্মেলন পর্যন্ত সহিদ উল্যা ভাই মূলতঃ সাধারণ সম্পাদক হিসেবেই কাজ করছিলেন। শ্রদ্ধেয় বাচ্চু তখন অনেকটা অনিয়মিত ছিলেন। সহিদ উল্যা ভাই সঙ্গত কারণে ঢাকা মহানগরের একচ্ছত্র সংগঠক ছিলেন।


১৯৮১ সালের ৩০ মে আমাদের প্রিয় নেত্রী দেশের ফেরার পর ঢাকার বাইরে প্রথম সফর করেছিলেন নারায়ণগঞ্জ। তিনি সহিদ উল্যা ভাইদের অনুরোধে জুরাইন বালুর মাঠে একটি পথসভা করেছিলেন। সেখানেই প্রথম আমার সাথে সহিদ উল্যা ভাই’র সাথে প্রথম দেখা হয়। পুরনো ঢাকার একটি বিশাল গ্রুপ তখন সহিদ উল্যা ভাইকে সকল সমর্থন এবং সহযোগিতায় ছিলো। 

 

অন্যান্যদের মধ্যে আবুল কাশেম মন্টু, মোজাহিদুর রহমান হেলো, জাজাউর রহমান আলো, কাজল ভাই, শিবনাথ ঘোষ, জহিরুল আলম, তানজিল প্রমুখ। অন্যান্য থানা এবং কলেজগুলোতে সহিদ উল্যা ভাই’র গ্রুপে ছিলেন লালবাগের ইউসুফ ভাই, জাফর ভাই, বাবলা ভাই, শেখ নজরুল, মোশাররফ, মহসিন, নজরুল, নাঈম এবং জসীম। ধানমন্ডির সিরাজ ভাই, খলিল ভাই, মিলন ভাই, তেজগায় হারুন ভাই, জাহিদ ভাই, শামসুল আরেফিন শ্যামল ভাই, জাফর এবং জরিফ। মিরপুরে এসএ মান্নান কচি ভাই, মান্নান ভাই। ডেমরায় তোফাজ্জল ভাই, মনির ভাই, শরীফ মোজাম্মেল, লুৎফর চেয়ারম্যান, তালুকদার জাহাঙ্গীর, রকিব খান লিটন, নুরমোহাম্মাদ, মজিবর রহমান, আমজাদ হোসেন, আসাদুজ্জামান মামুন, নুরুজ্জামাল কোতোয়াল, আওলাদ হোসেন এবং আয়নাল হক মিন্টু। রমনায় কামাল ভাই, লিয়াকত ভাই, বজলু ভাই, কুসুম ভাই, খোকন ভাই। রামপুরায় আইয়ুব আক্রাম মুকুল, ইকবাল। মতিঝিলের বাবুল ভাই, এজাজ, শওকত, বিপ্লব। জগন্নাথ কলেজের জাকারিয়া চৌধুরী, মনসুর। ঢাকা কলেজের সৈয়দ কামরুল, মারুফ ভাই, জসীম উদ্দিন, মারুফ, পরবর্তীতে পল, চঞ্চল, অশ্রু, আফজাল বাবু, চিনু, কবির কায়কোবাদ এবং মিরপুর বাংলা কলেজের মতি, মিজান। মোটকথা বিশাল এক বাহিনী সহিদ উল্যা ভাই’র সাংগঠনিক দক্ষতায় অনুকরণীয় ছিলেন।


১৯৮০ সালে ডাকসুতে কাদের-চুন্নু, ১৯৮১-তে কাদের-রবিউল এবং ১৯৮২-তে কাদের-নানক প্যানেলের পক্ষে আমরা তখনই সহিদ উল্যা ভাই’র সাথে নিয়মিত সকল প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করি। ছাত্রলীগ তখন দু’টো হয়ে গেলো-জালাল-জাহাঙ্গীর এবং ফজলু-চুন্নু। আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে আমরা প্রতিযেগিতা করে দুই গ্রুপই তখন পর্যন্ত অংশগ্রহণ করি।আমাদের দুই গ্রুপের মধ্যে প্রায়শই সংঘর্ষ হতো। 

 

১৯৮২ সালের ৪ জানুয়ারি বটতলায় অকস্মাৎ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে হামলা চালায়। একদিকে নতুন সামরিক স্বৈরাচার এরশাদ, অন্যদিকে আমাদের অভ্যন্তরীণ বিভাজন। সহিদ উল্যা ভাই তখন ছাত্রলীগ জালাল-জাহাঙ্গীরের সমাবেশের একমাত্র যোগানদাতা। কোনো বিশ্রাম ছিলোনা। যেকোনো সময় সহিদ উল্যা ভাই তার ফিফটি মটর সাইকেল নিয়ে বাসায় হাজির হতেন। রাতে আবার অধিকাংশ সময় মগবাজারে একটা গোপন জায়গায় থাকতে হতো।


এই সময়ের মধ্যে ১৯৮৩ সালের সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে এলেন মান্নান-নানক। মহানগরে যেকোনো কারণে সহিদ উল্যা ভাই আসলেননা। রুহুল-শাহে আলম আসলেন। ধারাবাহিক আন্দোলন এবং আবার পরবর্তী সম্মেলন ১৯৮৬ বা ১৯৮৭-তে আবার সহিদ উল্যা ভাই মহানগরের সভাপতি এবং কচি ভাই সাধারণ সম্পাদক হলেন। সুলতান ভাই এবং রহমান ভাই কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক হলেন। 

 

মহানগরে এই কমিটি সবচাইতে ভালো পারফর্মেন্স দেখিয়েছেন। তাদের নেতৃত্বে প্রেসক্লাবে আমরা ফ্রিডম পার্টির কবর রচনা করেছিলাম। সেদিন মহানগরের পক্ষে সহিদ উল্যা ভাই এবং কচি ভাই’র নেতৃত্বে সীমিত সামর্থ্যে বিশেষভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন নির্মল গোস্বামী, তেজগায়ের জরিফ, জাফর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি মনিরুজ্জামান বাদল ভাই, চুন্নু ভাই, রাজা, সূর্যসেন হলের ইউসুফ ভাই প্রমুখ (অনেকের নাম মনে করতে পারছিনা)। সুলতান ভাই কিউবায় ছিলেন। হাবিব ভাই ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছিলেন, রহমান ভাই ছিলেন। প্রেসক্লাব অভিমুখে মূল মিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মেদ ভাই।


সহিদ উল্যা ভাই পরবর্তীতে ছাত্রলীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তার বিশেষ অবদান জাতীয় শিশু কিশোর সংগঠনের সফল প্রতিষ্ঠা-শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদ। এই সংগঠনের মাধ্যমে তিনি লক্ষ লক্ষ শিশু কিশোরকে সংস্কৃতি চর্চা, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের দীক্ষা দান এবং আদর্শ নাগরিক হওয়ার প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন। সংগঠনটি জননেত্রী শেখ হাসিনার অনুপ্রেরণা এবং পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত। প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে রয়েছেন, রকিব ভাই, চৌধুরী মাহমুদ উস্ সামাদ (কায়েস চৌধুরী) এমপি, ডা.বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবলু ভাই, হেলো ভাই, কাজল ভাই, মজিবর, ইকবাল প্রমুখ।


সহিদ উল্যা ভাই’র বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি অবিচল থাকা। চূড়ান্ত নেতৃত্বকে কোনো কারণে প্রকাশ্যে সমালোচনা করে খাটো না করা। তার সভানেত্রীর কাছে সে কারণে সরাসরি এ্যাকসেস রয়েছে এবং যেকোনো ভুলের সমালোচনা সহিদ উল্যা ভাই সামনা সামনি করতে পছন্দ করেন। সহিদ উল্যা ভাই’র সরাসরি সমালোচনায় আপাকে কখনো রাগ করতে দেখিনি। 


ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দক্ষিণ অংশে সহিদ উল্যা ভাইকে যদি দেখা যায় তা’ যেমন সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদেরকে অনুপ্রাণিত করবে তেমনি এই অংশের জন্য একটি শক্তিশালী সংগঠন তৈরিতে সাহায্য করবে। সহিদ উল্যা ভাই’র সততা এবং নেতৃত্ব গুণ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী যথেষ্ট জ্ঞাত রয়েছেন। সহিদ উল্যা ভাই’র জন্য শুভ কামনা। (অনেকের নাম উল্লেখ করতে পারিনি বলে ক্ষমা চেয়ে নিলাম।)