বুধবার   ২৩ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৮ ১৪২৬   ২৩ সফর ১৪৪১

উপেক্ষিত আব্দুল হাই-ভিপি বাদল

প্রকাশিত: ৩ অক্টোবর ২০১৯  

যুগের চিন্তা রিপোর্ট : সময়টা ভালো যাচ্ছেনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো.বাদলের (ভিপি বাদল)। জেলা আওয়ামী লীগের একের পর এক বিতর্কে জর্জরিত হয়েছেন তারা। সবকিছু ছাপিয়ে সম্প্রতি তাদের নিয়ে ওঠা দুই বিতর্কে জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দসহ অনেক সিনিয়র নেতারাও তাদের এড়িয়ে চলছেন। 

 


সূত্র জানিয়েছে, গঠনতন্ত্র বিরোধীভাবে এবং কাউকে না জানিয়ে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের বিতর্কিত আহবায়ক কমিটি দিয়ে তোপের মুখে পড়েন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সেক্রেটারি। খোদ জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন আর্থিক লেনদেন এবং ব্যবসায়িক সুবিধা পাইয়ে দেয়ার মাধ্যম তৈরি করতেই ওই আহবায়ক কমিটি দেয়া হয়।

 

কমিটি দেয়ার পর জেলা আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতৃবৃন্দ এর প্রতিবাদ করে। শুধু প্রতিবাদই নয় আব্দুল হাই ও ভিপি বাদলের নামে ৩৮ সদস্যের স্বাক্ষরিত অভিযোগও কেন্দ্রে জমা পড়ে। এদিকে জেলা ও সোনারগাঁ থানা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের আপত্তি থাকার পরেও তারা আহবায়ক কমিটির মাধ্যমে একটি সমাবেশে অংশ নিতে যান।

 

অবশ্য তার ফলাফল হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন তারা। নির্ধারিত স্থানে সমাবেশ তো করতেই পারেননি। বেশ কয়েক ঘন্টা তাদের অবরুদ্ধ করে রাখার কথা জানান সেখানকার যুবলীগ নেতারা। পুলিশ সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করে শেষ অবদি সভাপতি ও সেক্রেটারিকে নেতাকর্মীদের তোপ থেকে রক্ষা করেন।

 

এতে সভাপতি ও সেক্রেটারিকে আবারো কথার বানে জর্জরিত করেন জেলা আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এখানেই শেষ নয়। ঢাকায় জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সভাপতি ও নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল যান  আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সাথে সাক্ষাত করতে।

 

ওই সময় ধানমন্ডিতে সভানেত্রীর কার্যালয়ের ফটকের সামনেই ছিলেন আব্দুল হাই-ভিপি বাদল। ওবায়দুল কাদের এই সংবাদ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের কাছ থেকে শুনতে পেয়ে তাদের ডাকতে বলেন। জাহাঙ্গীর আলম ফোন দিলে তারা সেখান থেকে চলে এসেছেন বলে জানান হাই-বাদল। একথা শুনে হাসতে হাসতে ওবায়দুল কাদের জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে বলেন, ‘বুঝতে পেরেছি, তারা তোমাদের মুখোমুখি হতে চায়না।’ 

 


 সর্বশেষ ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাদের দুইজনের উপস্থিতিতেই সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের কমিটি ভেঙে দেয়াকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন বলে জানিয়েছেন সভায় উপস্থিত মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন।

 

সেই সভার বরাত দিয়ে আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, দলের সেক্রেটারি তাদের ডেকে নিয়ে বলেছেন ওই আহবায়ক কমিটি দেয়া তোমাদের ঠিক হয়নি। এটি অবৈধ। আগের কমিটিই বহাল থাকবে।

 


এদিকে বিতর্কিত সোনারগাঁ আহবায়ক কমিটির রেষ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সেক্রেটারির ঘাড় থেকে না সরতেই আরেক বিতর্কের জন্ম হয়। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার মৌন সিদ্ধান্তে শুরু হওয়া শুদ্ধি অভিযানে ধরা পড়া যুবলীগ নেতা জিকে শামীমকে আটকের পর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় জিকে শামীম জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি।

 

এই সংবাদ প্রকাশের কয়েকঘন্টার মধ্যেই আব্দুল হাই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান জিকে শামীম নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কেউ নন। তবে ওইদিনই বোমা ফাটান জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও নাসিক মেয়র ডা.সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি জানান, জিকে শামীমকে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছিলেন আব্দুল হাই ও ভিপি বাদল। আর্থিক লেনদের মাধ্যমে জিকে শামীমকে সহসভাপতি করার প্রস্তাব তারাই দিয়েছিলেন।

 

কিন্তু জেলা আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতার আপত্তির মুখে সেদিন আব্দুল হাই ও ভিপি বাদল পুরোপুরি সফল হতে পারেননি। এরপরেই ঘটে যায় আরেক লঙ্কাকান্ড। জিকে শামীম, ভিপি বাদল ও আব্দুল হাইয়ের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ছবিতে দেখা যায় অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় শুয়ে ভিপি বাদল। তার হাতের কাছে হাত রেখে দাঁড়িয়ে জিকে শামীম। এরপাশেই দাঁড়িয়ে আছেন আব্দুল হাই।

 

এই ছবি প্রকাশের পর চারিদিক থেকে নানা প্রশ্নবানে জর্জরিত আব্দুল হাই ও ভিপি বাদল। অবশ্য এর উত্তর দুজনের মধ্যে কারও পক্ষ থেকে আসেনি। অবশ্য চুপ থাকেনি জেলা আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য নেতারা। সমালোচনার মুখে আব্দুল হাই ও ভিপি বাদলও ছিলেন চুপ। প্রধানমন্ত্রীর ৭৩তম জন্মদিন উপলক্ষে কেটকাটা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে জেলা আওয়ামী লীগ।

 

তবে সেই অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাইয়ের সভাপতিত্বে সহসভাপতি খবির উদ্দিন, সেক্রেটারি ভিপি বাদল, যুগ্ম সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু, দপ্তর সম্পাদত এম এ রাসেল, সাবেক সংরক্ষিত মহিলা এমপি হোসনে আরা বাবলী, আড়াইহাজার পৌরসভার মেয়র সুন্দর আলী, গোপালদী পৌরসভার মেয়র হালিম শিকদার।

 

এরপরেই কেন আসলেন না অন্যরা এই প্রশ্নের চেয়ে বেশি ঘুরপাক খায় ভিন্ন আরেকটি প্রশ্ন। তাহলে কি সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটি দেয়া আর জিকে শামীমের সাথে সংযোগের দরুণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সেক্রেটারি ভিপি বাদল অন্যদের মাধ্যমে উপেক্ষিত হচ্ছেন।

 

সম্প্রতি তাদের নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের সময় কেউই তাদের পাশে থাকতে চাচ্ছেননা? জেলা আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানিয়েছে, সভাপতি আব্দুল হাই ও সেক্রেটারি ভিপি বাদলকে নিয়ে বেশ কয়েকবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এবারের বিষয়গুলো সম্পূর্ণ আলাদা। একে তো নেত্রী সম্মতিতে শুদ্ধি অভিযান।

 

আর নেত্রী বলেছেন  সে যেই হোক এখানে কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা। এই মুহুর্ত্বে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সেক্রেটারি যে বিতর্কের মধ্যে পড়েছেন তাতে কেউই নিজেদের জড়াতে চাচ্ছেননা, এক অর্থে আব্দুল হাই-ভিপি বাদল এই মুহুর্ত্বে জেলার গ্রহণযোগ্য নেতৃবৃন্দ থেকে উপেক্ষিত হয়েই রয়েছেন বলা চলে।
 

এই বিভাগের আরো খবর