বুধবার   ২১ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৬ ১৪২৬   ১৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

ঈদ শেষ হলেও রিকশা চালকদের দিতে হচ্ছে ঈদের বকশিশ

প্রকাশিত: ১১ জুন ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : ঈদের ছুটির আমেজ শেষ হয়নি এখনো। নগরীর রাস্তাঘাট এখন অনেকটাই ফাঁকা। যানজট, কোলাহল পূর্ণ শহরটি এখন অন্যরূপে। সড়কে যানজট নেই,ফুটপাতে জটলা নেই। খুব সহজেই নগরীর একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে স্বস্তি নিয়ে চলাচল করতে পারছে সাধারণ মানুষ।


কিন্তু বিপত্তি ঘটছে যানবাহন নিয়ে। ঈদ উপলক্ষে সড়কে যানবাহনের সংখ্যা স্বল্প থাকায় ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। আর এ সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে যানবাহন চালকেরা। 


বিশেষ করে রিকশা চালকেরা এ সুযোগে সদব্যবহার করে চলেছেন। যাত্রীদের কাছ থেকে হাঁকাচ্ছেন দ্বিগুন ভাড়া। আর পরিবহন সংকট থাকায় বাধ্য হয়েই দ্বিগুন দাম দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে বলে এমনটাই অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।


ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, ঈদ উপলক্ষে বাড়তি আয়ের আশায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নারায়ণগঞ্জে চলে আসে। কোনো প্রকার নিয়মকানুন না থাকায় সহজ পেশা হিসেবে অনায়েসেই রিকশা বা ফুটপাতে ব্যবসায় শুরু করতে পারে এ ভাসমান মানুষেরা। ঈদ আসলে এদের সংখ্যা বেড়ে তিনগুণ হয়ে দাড়ায়। 


ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নগরীর সিংহভাগ যানবাহনের চালক হেলপার বিশেষ করে রিকশাচালকই নারায়ণগঞ্জের বাইরের থেকে আসা। এদের অধিকাংশই ঈদের সময় বাড়িতে চলে যান। আর এ সময়টাতে যানবাহন ও রিকশার সংকট।  এ  সুযোগ নিয়ে চালক হেলপাররা এই কয়েক দিন অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছেন।


মঙ্গলবার দুপুরে চাষাঢ়া বালুর মাঠের প্রেসক্লাবের মোড়ে গিয়ে দেখা যায় ভাড়া নিয়ে রিকশা চালকের বাকবিতন্ডা চলছে। যাত্রীর অভিযোগ,  দেওভাগ থেকে এখানে আসতে ভাড়া লাগে ২০-২৫ টাকা। এটা বলতেও হয় না। অথচ এখন ৪০ টাকা ভাড়া দাবি কওে বসে আছে।


এদিকে রিকশাওয়ালার ভাষ্য, ঈদ সিজন একটু তো ভাড়া বেশি হইবোই। যদি দিতে না পারে তাহলে উঠে কেন? হাইট্টা যাক। অবশেষে বাধ্য হয়েই যাত্রী ৩০ টাকা ভাড়া দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন আনেন।


ভুক্তভোগী যাত্রী শামীম হাসান বলেন, এটা কোনো কথা। কি একটা অবস্থা। ঈদ গেছে এক সপ্তাহ হয়ে গেছে অথচ রিকশাওয়ালাদের ঈদ এখনও চলে। আজব দেশ!


এখানেই শেষ নয় এ রকম দৃশ্য নগরীর অন্যান্য এলাকাগুলোতেও। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরীর নিতাইগঞ্জ, কাশিপুর,পঞ্চবটি,নয়ামটি, মন্ডলপাড়া, খিলমার্কেট, দেওভোগ, চাষাঢ়া বঙ্গবন্ধু সড়ক ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডসহ শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা অল্পসংখ্যক রিকশা, হাতেগোনা কয়েকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করছে। 


সায়াম প্লাজার সামনে কথা হয় বাবুরাইল এলাকার বাসিন্দা মুক্তা বেগমের সাথে। ঈদের পর টুকিটাকি কেনাকাটা করতেই চাষাঢ়ায় এসেছে। কিন্তু কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফেরার সময় ঘটেছে বিপত্তি। রিকশা পাওয়া যাচ্ছেনা। আর যাই পাচ্ছে তারা ৫০টাকার কমে নড়ছে না। 


তিনি বলেন, রিকশা কম থাকায় রিকশাওয়ালার আকাশপাতাল দাম চেয়ে বসে আছে। এখন রাতও বাড়ছে দাড়িয়ে তো আর থাকতে পারবো না তারা এটা ভালো করেই জানে। ঈদ আসলেই এই অবস্থা শুরু হয়। কোনো নিয়ম কানুন না থাকায় যার যেমন ইচ্ছা ভাড়া বাড়িয়ে চলে।


তবে রিকশাওয়ালা নুরু মিয়ার মতে, এটা তাদের অধিকার। মানুষ তো ঈদের বকশিশও দেয়।ঈদছাড়া তারা কমেই চালায়। তখন তো কেউ বেশি দেয় না। খালি ঈদ আসলে একটু বেশি নেই। তাতেই কত সমস্যা! অথচ জিনিসপত্রের দাম দিনের পর দিন বাড়তাছে তাতে কোনো দোষ নাই। আমরা চাইলেই দোষ। 
 

এই বিভাগের আরো খবর