বৃহস্পতিবার   ১২ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৮ ১৪২৬   ১৪ রবিউস সানি ১৪৪১

ঈদে ফাঁকা অন্যরকম নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০১৯  

নুসরাত জাহান সুপ্তি (যুগের চিন্তা ২৪) : জীবিকার টানে আসা মানুষগুলোর ঈদে ঘরমুখো হওয়ায় কর্মব্যস্ত আর যানজটের নগরী নারায়ণগঞ্জ এখন অনেকটাই ফাঁকা।


মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উদযাপন করতে নগরীতে ঈদের দিন ও ঈদের আগের কয়েবদিন মানুষের ঢল ছিল ঘরমুখী ।


স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে যাওয়া মানুষের ভিড়ে বাস, রেল ও ট্রেন স্টেশনগুলো রোববার বিকালেও ছিল লোকে- লোকারণ্য। সঠিক কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও ঈদে নগরীর অর্ধেকেরও বেশি মানুষ ঈদে নগরী ছাড়ে বলে ধারণা করা হয়।


এদিকে ছুটির হাওয়া লেগেছে নগরীর সড়ক-মহাসড়কগুলোতে।  সকাল থেকেই বঙ্গবন্ধু সড়ক, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড, চিটাগাং রোড,শিমরাইল ঘুরে চেনা ব্যস্ততা আর যানজট চোখে পড়েনি।


ফাঁকা নগরী ঘুরে খুশি ১৪ বছরের রায়হান। প্রতিদিন স্কুল,স্কুল থেকে কোচিং। তার এর মাঝে যানজট।  তাই ঈদের ছুটিতে প্রতিদিনে একই রুটিন থেকে বের হয়ে যানজটহীন এক নগরীতে ঘওে বেড়ানো তার কাছে অনেকটা স্বর্গ ছোয়ার মত।

 

রায়হানের মা মৌমিতা চৌধুরী জানান “ নগরীর দৈনন্দিনের বিড়ম্বনার নাম যানজট। সে হিসেবে ঈদটা ডাবল আনন্দ নিয়ে আসে।”


নিতাইগঞ্জের বাসিন্দা কামরুল ইসলাম ১৫ মিনিটেই চাষাঢ়ায় পৌঁছে স্বস্তি  প্রকাশ করে বলেন, “নিতাইগঞ্জ থেকে চাষাঢ়া আসতে আগে জান যাইত। আজ তো নিমিষেই চলে আসলাম। এমন ঈদ বছরে আরও কয়েকটা আসলে আমাদের এত ভোগান্তি হত না।”


অনেকেই পেশাগত কারণে নারায়ণগঞ্জে ঈদ করছেন। পরিবার-পরিজন ছাড়া ঈদ করার শূন্যতা থাকলেও ফাঁকা ঢাকা তাতে প্রলেপ দিচ্ছে কিছুটা হলেও।  তেমনি একজন  ট্রাফিক পুলিশ হাসান। “পরিবার ছাড়া ঈদ করলে তো একটু খারাপ লাগবেই। কিন্তু এমন সুনশান নগরী দেখতেও খারাপ লাগছে না।”

 


সকাল ৯টায় চাষাঢ়া গোল চত্বর থেকে শিবুমার্কেট  হয়ে সাইনবোর্ড আসেন আসেন ফতুল্লার বাসিন্দা অভি। এই পথে কোথাও যানজট না থাকায় মোটর সাইকেলে মাত্র ২০ মিনিটে চলে আসেন তিনি।

 


“অন্য সময় এই পথ আসতে দীর্ঘ যানজটের কবলে পড়তে হয়। ২০ মিনিটের রাস্তা তখন পৌঁছাতে সময় লাগে এক ঘন্টাঘণ্টা। আর যানজট বেশি হলেও তো কথাই নেই। কিন্তু আজ অনেকটাই অন্যরকম।

 


১নং গেট-সাইনবোর্ড পর্যন্ত আনন্দ পরিবহনের বাসচালক মফিজুল বলেন, খালি রুটে চালানোর মজাই আলাদা। আজকে তো রোকেয়া এক টানে ১নং গেট থেকে সাইনবোর্ড চলে আসছি, অন্যসময় তো একঘণ্টা সিগনালেই থাকি।

 


ফাঁকা সড়কে চলার আনন্দের কথা জানালেও কিছুটা অভিযোগ রয়েছে যাত্রীদের। চাষাঢ়া থেকে শিবু মার্কেট আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রুবেল মিয়া বলেন, “প্যাসেঞ্জার নাই দেখে ড্রাইভাররা জায়গায় জায়গায় দাঁড়ায় থাকে। বোনাসের নামে ভাড়াও বেশি নিচ্ছে।

 


এদিকে চাষাঢ়া, চাঁনমারী,নতুন কোর্টসহ বিভিন্ন এলাকার অফিস পাড়াগুলো একেবারে জনশূন্য হলেও শিবু মার্কেট, জালকুঁড়ি, ভুঁইগড়,চিটাগাংরোডে কিছুটা লোকসমাগম দেখা যায়। শেষ মুহূর্তে জামা, গো-খাদ্য, মশলাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খোঁজে বিপণি বিতানগুলোতে এসেছেন তারা।

 


এদিকে ঈদের ছুটিতে সেজে উঠছে বিনোদন কেন্দ্রগুলোও। নগরীর নম পার্ক, ইকো পার্ক ,অ্যাডভেঞ্চারল্যান্ডসহ অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দেখা যায় সাজ সাজ রব।

 

এই বিভাগের আরো খবর