সোমবার   ১৭ জুন ২০১৯   আষাঢ় ৪ ১৪২৬   ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

ঈদে এসএমএস করা ব্যাপারটা বেশ মজার : ভিপি বাদল

প্রকাশিত: ১২ জুন ২০১৮   আপডেট: ২১ জুন ২০১৮

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত শহীদ মো.বাদল। তোলারাম কলেজের তিনবার নির্বাচিত ভিপি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় সকলেই তাকে ভিপি বাদল হিসেবেই চেনেন। প্রতিবারই ঈদ পরিবারের সাথে উদযাপন করেন বলে জানান তিনি।

 

যুগের চিন্তা ২৪’র ঈদ আড্ডায় ভিপি বাদল এবারের ঈদ উদযাপন প্রসঙ্গে জানান, ঈদের নামায আদায় করার পর পাড়া প্রতিবেশীর সাথে কোলাকুলি করি, খোঁজখবর নেই। ছোটবেলায় একজনের বাসায় দাওয়াত দেয়া, দাওয়াত ছাড়াও এমনিতেই একজনের বাসায় যাওয়া। তারপরে মা’র কাছে যাই দেখা করতে। বাবার কবর জিয়ারত করি।

 

ঈদের পর দিন ভাই বোন, শ্বশুর-শ্বাশুড়ির সাথে দেখা করি। পছন্দের খাবার সেমাই খেতে পছন্দ করি। একটু পরপরই সেমাই খাওয়া অনেক মজার। অন্যান্য খাবার তো আছেই। সকালে ঈদের নামায পড়ে বন্ধুদের সাথে ক্লাবে গিয়ে বসা। কারো বাড়িতে দাওয়াত খাওয়া ও দেয়া। সব বন্ধুরা একত্রিত হওয়া। আমি ঈদের পর আমার কর্মীদের সাথে দেখা করি। তাদের খোঁজখবর নেই।এটা আমার ছোটবেলা থেকেই অভ্যাস। মজার ব্যাপার হলো ঈদে এসএমএস করা। সারাক্ষণ এসএমএসের উত্তর দিতে থাকি।

 

জেলা আওয়ামীলীগের সকলের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবো, এসএমএস করবো, দেখা করবো। পাড়া মহল্লার সকলের সাথেই ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবো। ঈদের সালামী বা ঈদী প্রসঙ্গে ভিপি বাদল বলেন, ছোটবেলায় অভিভাবকদের সালাম করলেই তারা ঈদের সালামী দিতেন। ওটা ছিলো সবচেয়ে আনন্দের। বাবার পরে দাদা-দাদী, মামারা বাসায় আসলে উনাদের সালাম করলে বেশি বেশি টাকা দিতো। ওইটা সবচেয়ে মজার। আগের ঈদ আর এখনকার ঈদ উদযাপনে অনেক পার্থক্য জানিয়ে ভিপি বাদল বলেন, আগে ঈদগাহে গিয়ে সবাই ঈদের নামায পড়তে যেতাম। যে রাস্তায় যেতাম নামায আদায় শেষে অন্য রাস্তায় বাসায় ফিরে আসা। আর এখন বেশিরভাগ মসজিদগুলোতে ঈদের নামায হয়।

 

ছোটবেলায় ঈদগাহ মাঠে বাবার সাথে নামায পড়তে যাওয়ার কথা বেশ মনে পড়ে। আর সেটা অনেক আনন্দের ছিলো। আর কষ্টের বিষয় ছিলো সকালে ঘুম থেকে উঠে গোসল করা। ফুটবলে আমি বরাবরই আর্জেন্টিনা সমর্থক জানিয়ে ভিপি বাদল বলেন, ফুটবলে আমার দ্বিতীয় পছন্দ ব্রাজিল। আমার স্ত্রীও আর্জেন্টিনার সমর্থক। আমার ছেলে স্পেন এর সমর্থক। পতাকা উড়ানো নিয়ে বিশাল কান্ড হয় বাসায়। ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার খেলা হলে তো আর কথাই নেই। ম্যারাডোনার বিশাল ভক্ত ছিলো আমাদের দেশে। টিভিতে খেলা দেখাও কম উত্তেজনাকর বিষয় নয়। ঈদের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ভিপি বাদল জানান, ঈদের আগে একবার আমি কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলাম।

 

তখন সবাই উৎকন্ঠায় আমি জামিনে বের হতে পারবো কি না। রোযার ঈদের ঠিক আগের দিন আমি ছাড়া পেয়ে গিয়েছিলাম। কারাগারে থাকা অবস্থায় আমার খুব খারাপ লাগছিলো এটা ভেবে যে পরিবার ছাড়া ঈদ করবো আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে আমি ঈদের আগের দিন ছাড়া ছাড়া পেয়ে গেলাম। বাসায় যখন ফিরলাম বাসার সবার সে কি আনন্দ। মা কান্না করতেছিলো। ভাইবোনরা জড়িয়ে ধরলো। একটা আনন্দের কান্না। ঈদের আগেই ঈদের আনন্দ। সবার একটা সন্দেহ ছিলো যদি ছাড়া না পায় তাহলে তো জেলেই ঈদ করতে হবে। পরিশেষে ভিপি বাদল বলেন, সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর উদযাপন আসলেই খুব আনন্দের। সব মানুষের জন্য এটি একটি বিশাল উৎসব। দল-মত নির্বিশেষে সকলকে আমার পক্ষ থেকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা।

এই বিভাগের আরো খবর