শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৫ ১৪২৬   ২০ মুহররম ১৪৪১

ঈদের জামা লুকিয়ে রাখতাম যাতে কেউ না দেখে : রেজাউল বারী

প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০১৮   আপডেট: ১৩ জুন ২০১৮

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : ‘ঈদের পোশাক কেনাকাটা থেকে শুরু করে ঈদের পোশাক পড়া পর্যন্ত অনেক স্মৃতি রয়েছে। ছোটবেলায় যখন বাজার থেকে নতুন জামা কিনে আনা হত জামা যাতে কেউ না দেখে ফেলে তাই লুকিয়ে রাখতাম।

 

বিশ্বাস ছিল যদি কেউ ঈদের জামা দেখে ফেলে তাহলে তো জামা পুরোনো হয়ে যাবে।’ ঈদ আড্ডায় যুগের চিন্তা ২৪’র সাথে এভাবেই ঈদে ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রেজাউল বারী। ছোটবেলার আর এখনকার ঈদ উদযাপন নিয়ে রেজাউল বারী জানান, তখনকার ঈদ উদযাপন আর এখন ঈদ উদযাপনে অনেক তফাত।

 

ছোটবেলার কথা যদি বলি। ঈদের মজার স্মৃতিগুলো আমার হাইস্কুল জীবনেই বেশি। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়া পুরোনো বন্ধুদের সাথে দেখা হওয়া এই স্মৃতিগুলো আমার জীবনের সবচেয়ে ভালো স্মৃতি। তখন আমরা বন্ধুরা একসাথে ঘুরাঘুরি করতাম। আমার সবচেয়ে বেশি ভালো সময় কেে ছে পুরাণ ঢাকায়। বাবা চাকরী সুবাদে আমি পুরান ঢাকায় ছিলাম বেশ অনেক দিন। পুরাণ ঢাকায় তেমন কোনো বন্ধু না থাকায় পুরোনো বন্ধুদের সাথে আমার ঈদ আসলেই আমার যোগাযোগ হত। একসাথে আড্ডা হত অনেক দারুণ সময় পার করতাম। এখনও হয় তবে আগের মত না। এখনতো পরিবার আছে। পরিবারের সাথেই ঈদের সময়টা কাটাই।

 

যদি বাড়ি যাওয়া হয় তাহলে পরিবার নিয়ে বের হব। আমি সুযোগ পেলেই ঘোরাঘুরি করি। ঘোরাঘুরি করতে আমার বরাবরই ভালো লাগে। বিশেষ করে রিকশায় করে ঘুরতে বেশ ভালো লাগে আমার। সাথে পরিবারের সদস্যরা থাকলে সে আনন্দ আরো দ্বিগুন হয়। ঈদ প্রস্তুতি নিয়ে রেজাউল বারী জানান, প্রস্তুতি বলতে এ পর্যন্ত একটা পাঞ্জাবীই কিনেছি। সময় পেলে আরো কিছু কেনাকাটা করবো। তবে এখনও স্থির করতে পারিনি কোথায় ঈদ কাটাবো। ঈদের ছুটির ওপর নির্ভর করবে কোথায় ঈদ করবো। যদি ছুটি পাওয়া যায় তাহলে গ্রামে (জামালপুর) যাব, আর যদি ছুটি না পাওয়া যায় তাহলে এখানেই ঈদের সময়টা কাটিয়ে দিব। ছোটবেলায় ঈদের সালামি নেয়ার কিছু মজার স্মৃতি প্রসঙ্গে রেজাউল বারী জানান ঈদের সালামীর স্মৃতি বলতে অনেক স্মৃতি। ছোটবেলায় নতুন কচকচে টাকা পকেটে করে নিয়ে বন্ধুদের সাথে নিয়ে আড্ডা দেয়া খাওয়া দাওয়া করা সবগুলোই আমরা জীবনের শ্রেষ্ঠ স্মৃতি। আমাদের একটা গ্রুপ ছিল চার-পাঁচজনের। ঈদের দিন সকাল বেলা গোসল সেরে নতুন জামা কাপড় পড়ে বের হয়ে পড়তাম বন্ধুদের সাথে। তারপর এ বাসা ও বাসা ঘুরে বেড়াতাম। তবে এখন আর ঈদ বকশিশ পাওয়া হয় না। বড় হয়ে গেছি না। ঈদের দিন ব্যস্ততা নিয়ে তিনি বলেন,ঈদের দিনটি কীভাবে কাটাবো তা নির্ভর করবে ঈদের ছুটির ওপর। কারণ বাড়িতে থাকলে একরকম হবে আর যদি এখানে থাকা হয় তাহলে অন্যরকম। যদি ছুটিতে বাড়িতে যাই তাহলে ঈদের দিন পরিবারের সাথে কাটাবো। আর যদি এখানে থাকা হয় তাহলে ডিসি স্যারের বাঙলোতে সহকর্মীদের সাথে ঈদের দিনটা কাটাবো। ঈদের পছন্দের খাবারের তালিকা নিয়ে রেজাউল বারী জানান, আমার ঝাল খুব পছন্দ।

 

ঈদের দিন সেমাই খাওয়ার পর ঝাল জাতীয় খাবার আমার প্রথম পছন্দ। আর যদি খিচুড়ী, বেশি বেশি ডাল আর মাংস দিয়ে রান্না করা হয় তাহলে তো আর কথাই নেই। বিশ্বকাপ ফুটবল পছন্দের দল প্রসঙ্গে রেজাউল বারী বলেন, যখন থেকে ফুটবল খেলা বুঝতে শিখেছি তখন থেকেই ব্রাজিল সার্পোট করি। ব্রাজিল সার্পোটের আরো একটা কারণ ছিল ফুটবলার পেলেকে ভালো লাগতো। তাছাড়া ব্রাজিলতো ভালো দল। অন্যান্য দল জার্মানী,ইতালীও ভালো। তবে ব্রাজিলের প্রতি আমার দূর্বলতা একটু বেশি। পরিবার ছাড়া কখনও ঈদ উদযাপন হয়েছে কিনা এ নিয়ে জানতে চাইলে রেজাউল বারী বলেন, তেমনটা কখনই হয় নি। তবে এবার হলেও হতে পারে। এটা ঈদের ছুটির ওপর নির্ভর করবে। এ সময় তিনি যুগের চিন্তা ২৪’র ঈদ আড্ডা থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রেজাউল বারী তাঁর পরিবার-পরিজন,নারায়ণগঞ্জবাসীকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান।

এই বিভাগের আরো খবর