মঙ্গলবার   ২৬ মে ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪২৭   ০৩ শাওয়াল ১৪৪১

ইফতারের অন্তরালে সভা-সমাবেশ হচ্ছে না বিএনপির

প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল ২০২০  

তুষার আহমেদ : ২০০৮ থেকে ২০২০, এই দীর্ঘ ১২ বছর ক্ষমতার বাইরে থেকে দলীয় ভাবে কোনঠাসা হয়ে পড়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি। একই পরিনতি যুবদল, ছাত্রদল ও সহযোগি সংগঠনগুলোর। 

 

শুরুতে সরকার বিরোধী আন্দোলন জোরদার করলেও তা কাজে আসেনি। এক সময় সেই আন্দোলন রূপ নেয় সহিংসতায়। ফলে জ¦ালাও-পোড়াও কর্মকান্ড ও রাষ্ট্রবিরোধী নাশকতার অভিযোগে বিএনপি ও সহযোগি দল জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর এ্যাকশনে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরপর থেকে শান্তিপূর্ন কর্মসূচি পালনেও বাধা-বিপত্তিতে পরতে হয়েছে দলটিকে। এই অবস্থায় পুলিশি মামলা ও ধর-পাকড়ের মধ্যেই পেরিয়ে গেল একযুগ। এই সময়ে ক্ষমতাসীন দলের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ভীত নড়বরে হয়েছে পরে দলটির। 

 

নারায়ণগঞ্জে বিগত বছর গুলোতে দেখা গেছে, শহর কিংবা শহরতলী, কোথাও দলীয় মিটিং, মিছিল অথবা সভা-সমাবেশ ঐচ্ছিক ভাবে পালন করতে পারেনি বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনগুলো। কখনও অনুমতি, কখনও নিরাপত্তা অযুহাত আবার কখনও সহিংসতার অভিযোগে পুলিশি বাধায় পন্ড হয়েছে দলীয় কর্মসূচি। 

 

ফলে বছর জুড়ে কর্মসূচি পালন করতে না পেরে সাংগঠনিক তৎপরতা লোপ পেলেও রমজান মাস এলে ইফতার পার্টির বদৌলতে সরব থাকতো বিএনপির নেতৃবৃন্দ থেকে তৃণমূল কর্মীরা। তাই প্রতিবছর গোটা রমজান জুড়ে ইফতার মাহফিল আয়োজন করত দলটি। 

 

বিশেষ করে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এ্যাড. তৈমূর আলম খন্দকার, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির, সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদ, সাবেক সংসদ সদস্য ও মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম, কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শাহ-আলম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন সিকদার, বিএনপি নেতা এ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, যুবদল নেতা মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, জেলা ছাত্রদল নেতা মশিউর রহমান রনিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দদেরকে বিগত রমজান মাস জুড়ে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করতে দেখা যেত। 

 

মূলত ইফতার মাহফিলের অন্তরালে সংগঠনিক বৈঠক ও সভা-সমাবেশ কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পালন করে আসছিল নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। ইফতার মাহফিলের ব্যানার হওয়ায় এতে বাধ সাধেনি পুলিশও। 

 

কিন্তু এবছর বিএনপির এই পদ্ধতিতে বাঁধ সেধেছে করোনাভারাইস। কেননা করোনার সংক্রোমন এড়াতে সকল ধরনের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সমাগম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। 

 

তাছাড়া করোনার কারণে এবার রোজায় কোন ইফতার পার্টি করা যাবে না বলে স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম।   

 

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে গতকাল বুধবার পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম যুগের চিন্তার এই প্রতিবেদক’কে বলেন, ‘দেশে মহামারি করোনার উপদ্রপ চলছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের অবস্থা ভালো নয়। করোনার সংক্রোমন এড়াতে রমজান আসার পূর্বেই সব ধরনের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। 

 

এ নিষেধাজ্ঞা এখনও বহাল রয়েছে। তাই এবছর রমজানে কোন ইফতার পার্টি করা যাবে না। যদি কোন রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা ধর্মীয় সংগঠন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইফতার মাহফিল করার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’     

 

এদিকে এবছর ইফতার মাহফিল আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা আসায় আক্ষেপ প্রকাশ করছেন তৃণমূল কর্মীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের এক নেতা বলেন- ‘বিগত দিন গুলোতে বছরের এগারো মাসই দলীয় কর্মসূচি পালন করতে ব্যর্থ হয়েছি। নানা ধরনের অভিযোগে পুলিশ কর্মসূচি পালনে বাধা দিয়েছে। 

 

তাই রমজান মাসে ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে আমরা দলীয় কর্মীরা একত্রিত হতাম। নেতৃবৃন্দদের কাছে পেতাম। কিন্তু এবছর তা হয়ে উঠছে না। করোনার কারণে ইফতার মাহফিল বন্ধ। ঘর থেকেই বের হতে পারছিনা। এই পরিস্থিতিতে অবশ্য কিছুই করার নেই।’ 

 

এদিকে করোনার কারণে ইফতার মাহফিল করতে না পারায় রাজনৈতিক ঘাটতি হবে বলে স্বীকার করছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদ। বুধবার দুপুরে যুগের চিন্তাকে তিনি বলেন- ‘আমরা বিএনপির নেতাকর্মীরা ও সহযোগি সংগঠনগুলো পুলিশের মাধ্যমে সরকারি দলের জুলুম অত্যাচার বয়ে বেড়াচ্ছি।

 

বিগত দিনে বাধা বিঘ্ন ছাড়া একটি কর্মসূচিও পালন করতে পারিনি। তাই প্রতিবছর রোজার মাসটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ন সময় ছিলো। এই মাসে আমরা ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে একসাথে হতে পারতাম। সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করতে পারতাম। 

 

কিন্তু দেশে করোনার কারণে ক্রান্তিকাল বিরাজ করছে। এই সময়ে ইফতার মাহফিল করা যাবে না। এতে কারো হাত নেই। তবে ইফতার মাহফিল করতে না পারায় এতে আমাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ডে ঘাটতি দেখা দিবে বলে স্বীকার করছি। ইফতার মাহফিল গুলোর মাধ্যমে আমরা সংগঠনের গতি খুঁজে পেতাম।’  

 

তিনি বলেন- ‘এবছর ইফতার মাহফিল করতে না পারলেও আমরা দলের কর্মীদের খোঁজ খবর রাখছি। সংকটময় সময়ে তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসছি। এছাড়াও জেলাব্যাপী আমাদের বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল অসহায় মানুষের সেবায় এগিয়ে আসছে। 

 

আমাদের ছাত্র দলের নেতাকর্মীরা কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছে। জনসাধারণ নিয়ে আছি। এর মাধ্যমে মানুষের সাথে আরো বেশি সম্পৃক্ত হচ্ছি। মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছি। এটাই হচ্ছে আমাদের রাজনীতি।’
 

এই বিভাগের আরো খবর