শনিবার   ২৪ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৮ ১৪২৬   ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

আড়াইহাজার কামারপাড়ায় চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা

প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০১৯  

আড়াইহাজার (যুগের চিন্তা ২৪) : ঈদুল আজাহাকে সামনে রেখে আড়াইহাজার উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কামারপাড়ায় চলছে শেষ মুহূর্তের হরধম কাজ।


রোববার (১১ আগস্ট) সকালে স্থানীয় বিভিন্ন কামারপাড়ায় গিয়ে দেখা গেছে ঢুকঢাক শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে তাদের কর্মযজ্ঞ। কাজের চাপে তাদের ফুসরত নেওয়ার সময় নেই। 


তবে শারীরিক পরিশ্রম হলেও বাড়তি আয় হওয়ায় তাদের চোখে মুখে যেন হাসির জিলিক। বড়দের পাশাপাশি বসে নেই পরিবারের ছোটরাও। দেখা গেছে তারাও কাজে হাত লাগিয়েছেন। কর্মকাররা জানান, ঈদুল আজাহাকে সামনে রেখে প্রতিবছরই তাদের কর্মব্যস্ততা বেড়ে যায়। এ সময়টাতে তাদের আয়রোজগারও ভালো হয়। 


তবে কয়লা সঙ্কট আর আধুনিকায়নের ফলে বিলুপ্তির পথে যেতে চলেছে কামার শিল্প। লোহার তৈরি ছুরি, কাচি, কুড়াল, দা-বটির পরিবর্তে স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি বিদেশী আধুনিক গৃহসামগ্রী বাজার দখল করেছে। ফলে এ শিল্প এখন চরম হুমকির মুখে। 


জানাগেছে, বড় বড় শিল্প কারখানাগুলো বিদেশ থেকে এলসির মাধ্যমে কয়লা আমদানী করে থাকে। কিন্তু সে কয়লা কামররা পান না। ফলে আবাসিক বাড়ির খড়ির কয়লা দিয়ে এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখা দুঃস্বাধ্য হয়ে পড়েছে তাদের জন্য। এক সময় উপজেলা শহরের মোড়ে মোড়ে কামারদের কর্মব্যস্ততা চোখে পড়তো। কালির ঝুঁলি আর ধোয়ার বেষ্টিত কামারদের দিনরাত ব্যস্ত থাকতে দেখা যেত। 


এ পেশায় সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আগে ১ টাকায় পাওয়া যেত ১ কেজি কয়লা। এখন তার দাম কেজি প্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকা। মাত্র ১ টাকার লোহা এখন প্রায় ৫০ টাকায় উন্নিত হয়েছে। তাই এ কাজে আর আগের মত লাভও হয় না। একদিকে কয়লা সঙ্কট অন্যদিকে খাটুনির কাজ। পরিশ্রমের এ কাজের জন্য লোক পাওয়াও মুসকিল। বেঁচে থাকার তাগিদে কেউ কেউ ধরে রেখেছেন বাপ-দাদার আমলের এই পেশা। আবার অনেকেই পেশা পরিবর্তনও করেছেন।


অনেকটা আক্ষেপ করেই চরপাড়ার নিমাই কর্মকার বলেন, না পারি ছাড়তে, না পাড়ি চালাতে। লোহা ও কয়লার দাম দিন দিন বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ টাকার বেশি আয় করা সম্ভব হয় না। পেটের দায়ে এখনও পড়ে আছি এ পেশায়। অন্য কাজতো আর পারি না, বাপ-দাদার এই পেশাও ছাড়তে পারি না, ছাড়লেও চলতে পারব না। 


তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বেশিরভাগ কামররাই এ পেশা ছেড়ে দিয়ে কেউ কৃষি কাজ করে, কেউ ভ্যান চালায়, কেউ ইটভাটা ও ধানের চাতালে কাজ করছে। প্রায় ৫০ বছর ধরে বাপ-দাদার দেয়া এই পেশায় আছি। অন্য কোনো কাজ তেমন করতে পারি না। তবে বর্তমানে লোহা ও কয়লার যে রকম দাম বাড়ছে তাতে আমিও হয়তো আর বেশিদিন এই কাজ করতে পারব না। তাই এই কাজ ছেড়ে তিনি মাঠে কৃষি কাজ করবেন বলে জানান তিনি।


কামারদের মাঝে খনিজ কয়লার সরবরাহ নিশ্চিত করা হলে এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব বলে দাবি সচেতন মহলের।

এই বিভাগের আরো খবর