শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৫ ১৪২৬   ২০ মুহররম ১৪৪১

আশীর্বাদ না অভিশাপ কিং মেকার! 

প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮  

বিএনপির দূরাবস্থার জন্য নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির কিং মেকার বলে খ্যাত মোহাম্মদ আলীকে দায়ী করেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। বিএনপির লেবাসে ওসমান পরিবারের সাথে প্রকাশ্য সখ্যতা ও ওয়ান ইলেভেনের আগাম তথ্যদাতা মোহাম্মদ আলী নিজে নয়, অন্যকে ভাঙাগড়ায় খেলতে পছন্দ করেন। 

তত্বাবধায়ক সকার প্রধান কে হবে এ নিয়ে যখন আন্দোলন তুঙ্গ ঠিক সে সময় বিকেএমইএ এক সভায় তিনি সেনাশাসনের পক্ষে বক্তব্য দেন। ধারণা করা হয়, জরুরী অবস্থা জারির পেছনে তিনি ব্যবসায়ীদের পক্ষে   জোড়ালো ভূমিকা নেন। এরপরে নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি হয়। বিএনপি নেতাকর্মীরা নানা দমনপীড়নের শিকার হলেও তিনি ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। 

নারায়ণগঞ্জে বিএনপির মধ্যে চলছে চরম বিভেদ। দলে মনোনয়ন ও পদ-পদবীকে কেন্দ্র করে নেতায়-নেতায় তীব্র বিরোধ চলছে। 

শুধু এই বিভেদ সৃষ্টির মূল হোতা-ই নয়, বিভেদ জিইয়ে রাখতেও কাজ করছেন এই কিং মেকার। সরকার বিরোধী আন্দোলনে কোন ভূমিকা না থাকলেও নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের সাংসদদের সাথে তার সু-সম্পর্ক প্রকাশ্য। শুধু তাই নয়, শামীম ওসমানের উপস্থিতিতে সভা-সমাবেশে তিনি ‘জয় বাংলা’ বলেও স্লোগান দেন। 

তৃণমূলের অভিযোগ, মোহাম্মদ আলী দীর্ঘদিন পর্দার আড়ালে থেকে নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের সাথে আতাঁত করে আওয়ামীলীগের হয়ে কাজ করে গেছেন। যা সাংসদ নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পরে বিষয়টি আরো প্রকাশ্য হয়ে পড়ে। তাঁর শূন্য আসনটিতে উপ নির্বাচনে প্রয়াত নাসিম ওমানের ছোট ভাই সেলিম ওসমান শূন্য আসনে প্রার্থী হলে কিং মেকার খ্যাতি পাওয়া মোহাম্মদ আলী প্রকাশ্যে সেলিম ওসমানের পক্ষে নির্বাচন করেন। 

কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এই কিং মেকার মোহাম্মদ আলীকে দেখা গেছে ভিন্ন রূপে যা ৪ আসনের বিএনপির সাধারণ নেতা কর্মী  স্তম্ভিত হয়ে পড়েন। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচননে দলীয়ভাবে যাদের মনোয়ন দেওয়া হয় কিং মেকার সেই প্রার্থীর বিরোধে বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করিয়ে দেন যা নির্বাচনের ফলাফলে বিএনপির ভরা ডুবি নেমে আসে।

এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রয়াত নাসিরউদ্দিনের মৃত্যুর পরে উপ-নির্বাচনে দলীয়ভাবে মনোয়ন দেওয়া হয় স ম নুরুল ইসলামকে কিং মেকার খ্যাতি মোহাম্মদ আলী তার আপন ভাজিতা হাবিবুর রহমান লিটনকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করান আর বিএনপির দলীয় প্রার্থীকে ডুবিয়ে দেন বুড়িগঙ্গা নদীর অতল জলে। কিং মেকার মোহাম্মদ আলী নারায়ণগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার পদে নির্বাচন করেন যা পরোক্ষভাবে সেলিম ওসমান এই কিং মেকার মোহাম্মদ আলীকে পাশ করিয়ে নিয়ে আসেন।

কিং মেকার মোহাম্মদ আলী ওসমান পরিবারের সাথে এতোটাই আঁতাত করে চলছেন যা বিগত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ও প্রকাশ পেয়েছে এই কিং মেকার মোহাম্মদ আলী আসেননি বিএনপির দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায়। কিং মেকার খ্যাতি মোহাম্মদ আলী নারায়ণগঞ্জে চষে বেড়িয়েছেন ওসমান পরিবারের সমস্ত রাজনৈতিক থেকে সামাজিক অনুষ্ঠানে। 

নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি এলাকায় কিং মেকার মোহাম্মদ আলীর সমর্থকদের দিয়ে বিএনপিতে নিজস্ববলয় তৈরি করে বিভেদ জিইয়ে রেখেছেন। এই বিভেদ বিএনপির জন্য একটি অশুভ সংকেত হিসেবেই বিবেচনা করে তৃণমূল। 

বর্তমানে  নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির নেতা কর্মীদের সাথে মোহাম্মদ আলীর সমর্থক নেতা কর্মীদের চরম বিরোধ দেখা দিয়েছে। এই কিং মেকার নিজের পছন্দের লোককে দরিয়া পার করাতে সবরকমের রণকৌশল নিয়ে আগাচ্ছেন। উভয়দিকে যোগাযোগ থাকায় তাকে বেশ সমীহও করে দলের লোকেরা।

নিজের পছন্দের না হলে। প্রয়োজনে দলের মনোনীত প্রার্থীকেও ল্যাং মেরে দিতে পারেন তিনি। তৃণমূলের মতে, দুমুখো এই কিং মেকারের প্রভাব থেকে দলকে মুক্ত না করা হলে আগামী নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাবে দলের ভরাডুবি হতে পারে।


লেখক: সাঈদ দেলোয়ার
saidedelower4490@gmail.com