মঙ্গলবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ২ ১৪২৬   ১৭ মুহররম ১৪৪১

আলী আহাম্মদ চুনকা ও তাঁর সন্তানেরা

প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০১৮  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে ভারসাম্য এবং আওয়ামী লীগের ঘুরে দাড়ানোর পেছনে ঐতিহ্যবাহী চুনকা পরিবার অতুলনীয় ভূমিকা পালন করে আসছে প্রথম থেকেই। প্রথমে নেতৃত্ব দিয়েছেন পিতা আর এখন করছেন তার সন্তানরা।

 নানান ভাবে চুনকা পরিবারকে বিব্রত ও ভয় দেখিয়ে বারবার লক্ষ্যচ্যুত করার চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু এসবে কখনোই টলানো যায়নি তাদের। নগর পিতা আলী আহাম্মদ চুনকার যেমনি অন্যায়ের সাথে কখনো আপোষ  করেননি ঠিক তেমনি হুবহু পিতাকে অনুসরন করেছেন আজ সবার রোল মডেল হয়ে আলো ছড়াচ্ছেন তাঁর সন্তানেরা।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে নারায়ণগঞ্জ তথা সারা দেশের সবাই চিনেন। তিনি এখন অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। এই পরিবারের আরেক সদস্য রাজনীতির সাথে যুক্ত আছেন। তার নাম আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জল। অনেকটা প্রচার বিমুখ। নিরবে কাজ করতেই পছন্দ করেন। উজ্জল বর্তমানে মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তাকে  দেখা যায় চায়ের দোকনে, সড়কের পাশে, হাটঘাটে মানুষের সাথে কথা বলছেন, দলের লোক জনকে অনুপ্রাণিত করছেন। আবার দেখা যায় কখনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, কোন ক্লাব সংগঠনের কার্যালয়ে অথবা খেলার মাঠে। ওয়াজ মাহফিল, কুল ফাতেহা ওরশ বাউল গানের অনুষ্ঠানে।

বহুমুখী গুণ নিয়ে কাজ করছেন কেবল পিতা আলী আহাম্মদ চুনকার হেটে যাওয়া পথে চলতে। অনেকেই বলেন, জননেতা চুনকার অনেক গুনাবলী ফুটে উঠেছে তার কনিষ্ঠ সন্তান উজ্জলের মধ্যে। কারো কারো মতে উঠে আসছেন আরো একজন চুনকা।

উজ্জল বিগত সময়ে আওয়ামীলীগের দুঃসময়ে দলের জন্য কাজ করেছেন। গত সাড়ে নয় বছর ছিল আওয়ামীলীগের স্বর্ণযুগ। এ সময়ে অনেকে পদপদবী ব্যবহার করে আঙুল ফুলে কলা গাছ হয়েছে। কিন্তু উজ্জল ব্যতিক্রম। যেমনটা আগে দেখা গেছে এখনো তেমনই। কিন্তু উজ্জলের পথ চলা এতাটা সহজ ছিল না।

গ্রুপিং করে কোন ঠাসা করার চেস্টা সব সময় চলেছে তবে নিজের পথে অবিচল থাকাতে বিরোধীরা পেরে উঠেনি কখনোও। আলী আহাম্মদ চুনকার সন্তান ও যুবলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা সত্বেও তাকে জেলে যেতে হয়েছে মিথ্যা মামলায়। সন্ত্রাসী ক্যাঙ্গারু পারভেজ নিখোজ হলে তাকে জড়ানোর চেস্টা করা হয়। উজ্জল কয়েক দিন জেল খাটেন এ মামলায়।

নাগরিক কমিটির সম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান বলেন, ‘আলী আহাম্মদ চুনকা ভাই যেমন ছিলেন তার সন্তানরাও তেমনই। ব্যক্তি ও পারিবারিক স্বার্থ উদ্ধারে তারা ব্যস্ত নন। আওয়ামীলীগের জন্য নিবেদিত। জাতির জনকের আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন নিরন্তর। সবার জন্য তাদের দরজা অবারিত। তারা আজ সফল।

এর কারণ হচ্ছে চুনকা ভাইয়ের সন্তানরা মনের কার্পণ্য থেকে মুক্ত। জোট সরকারের আমলে আমরা দেখেছি এখন যারা চুনকা ভাইয়ের সন্তানদের সাথে রেষারেষি করছে তাদেরকেও সাহারা দিয়েছে । এই পরিবারটি অন্যদের মতো ব্যক্তি বা পরিবার লীগ কায়েম করার চেষ্টা করে না ।’

পেছনে তাকালে দেখা যায়, ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম পৌরসভা নির্বাচনে আলী আহাম্মদ চুনকা তার প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীকে বিরাট ব্যবধানে পরাজিত করেন। তারা হলেন খাজা মহিউদ্দিন ও খোকা মহিউদ্দিন।

দায়িত্ব নিয়ে পৌর এলাকায় সাধারণ মানুষের আপনজন হয়ে যান আলী আহম্মেদ চুনকা। যে কেউ যখন তখন তার কাছে  যেতে পারতেন। সবার কথা তিনি মনোযোগী হয়ে শুনতেন। ঝাপিয়ে পড়তেন মানুষের বিপদে সাহায্যের হাত নিয়ে।  

এভাবে চলে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত । রক্তাক্ত ও কলংকিত ১৫ আগস্টের পর অনেকে আত্মগোপন করেন অনেকে  জেলবন্দী হন। আওয়োমীলীগের শুরু হয় চরম দুর্দিন। আলী আহাম্মদ চুনকা সে সময় দলের কর্মকান্ড পরিচালনা করতে থাকেন। এর মধ্যে তিনি নজর ও গৃহবন্দি ছিলেন বেশ কিছুদিন।

বন্দি অবস্থায় থেকে তিনি দলের  নেতাকর্মীদের নানান দিক নির্দেশনা দিতেন। দেখতে দেখতে তার এই মেয়াদ শেষ হয়। আসে ১৯৭৮ সালের দ্বিতীয় পৌর নির্বাচন। এ নির্বাচনে তিনি ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী হাজী জালাল উদ্দিনকে ব্যাপক ব্যবধানে পরাজিত করেন।

আলী আহাম্মদ চুনকার সেই বিজয় নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করে। আর সারা দেশে এর প্রভাব পড়ে। ১৯৭৯ সালে মিজান চৌধুরী আওয়ামী লীগ থেকে বের হয়ে গিয়ে পাল্টা আওয়ামী লীগ করেন। যা আওয়ামী লীগ (মিজান) হিসেবে পরিচিত লাভ করে।  সে সময় নারায়ণগঞ্জের তিন জন ডাক সাইটের নেতা তাদের সমর্থকদের নিয়ে মিজান আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। তারা হলেন, আফজাল হোসেন, খাজা মহিউদ্দিন ও খোকা মহিউদ্দিন।

খাজা মহিউদ্দিনের কথা অনুযায়ী, সেটা ছিল একটা ভিন্ন প্রেক্ষাপট (১৯৭৯)। আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সাথে  বেইমানী করিনি। আর নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ফলাফল বরাবরই ভালো। আমরা স্বাধীকার  আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ করেছি। ফলে নারায়ণগঞ্জের মানুষ আমাদের ভোট দেন।

আমাদের মধ্যে যিনি  যোগ্য বলে বিবেচিত তাকেই নির্বাচিত করেন এলাকার মানুষ (১৯৭৩)। আমরা ১৯৫৮ সাল থেকে কাজ করছি।  জেলে থেকে বিএ পরীক্ষা দিয়েছি। এতো জুলুম সহ্য করেছি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায়। কাজেই মানুষ আমাদেরই পছন্দ করেন। আমাদের সময় নীতি আদর্শ ছিল।

এখন ভুলপথে চলছে অনেকে। স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় আদর্শ হারিয়ে যাচ্ছে। তবে কিছু লোক এখনো সঠিক পথে আছেন। এদিকে ১৯৭৮ সালের নির্বাচনে চেষ্টা চালানো হয়েছিল ফলাফল উল্টানো যায় কিনা। কিন্তু জননেতা আলী আহাম্মদ চুনকার প্রতি মানুষের সমর্থন তা হতে দেয় নি। প্রায় ৪০ হাজার ভোটের ব্যবধানে তিনি জয়ী হন দ্বিতীয় বারের মতো।

সেই বিজয় নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগকে ঘুরে দাড়াতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। তখন সকল গ্রুপের লোকজন মিজান গ্রুপ ছাড়া। চুনকার নেতৃত্বে সমবেত হন। তখন বিএনপি’র মিটিং, মিছিলের চাইতেও আওয়ামী লীগের মিটিং, মিছিলে লোক সমাগত বেশি হতো।

এই তথ্যটি জানান, বর্তমান নাগরিক কমিটির সম্পাদক আব্দুর রহমান। সময় যায়, দেশে আবার পালা বদল ঘটে। ১৯৮১ সালের মে মাসে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন। ডিসেম্বরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আলী আহমেদ চুনকা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে  জেলার নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি মূল্যবান সম্পদ বিক্রি করে দিয়ে নির্বাচনী খরচ নির্বাহ করেন।

১৯৮২ সালের মার্চ মাসে সামরিক আইন জারী হয়। ১৯৭৫ সালের আগষ্ট মাস থেকে শুরু করে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত জননেতা আলী আহমেদ চুনকা কখনো নজরবন্দি কখনো গৃহবন্দি থাকতেন। সেই সময় গুলোতে বিধি নিষেধ শিথিল হতো তখনি তিনি ঝাপিয়ে পড়তেন মানুষের কাজে।

১৯৮৪ সালের নির্বাচনের সময় সুযোগ নিয়ে নাজিমউদ্দিন মাহমুদকে আড়ালে সমর্থন দেয় নারায়ণগঞ্জের একটি প্রভাবশালী মহল। সেই নির্বাচনের ফলাফল হবার আগেই পরলোকে চলে যান দুঃসময়ের কান্ডারী জননন্দিত এই নেতা আলী আহাম্মদ চুনকা।

বর্তমান প্রজন্মের সূচনা :

আলী আহাম্মদ চুনকার মৃত্যুর পর এরপর দীর্ঘ সময় যায়। এই সময়টুকুতে চুনকা পরিবারের পক্ষে জমির আহমেদ জমু তৎপরতা চালান । এ সময় দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার সুপারিশে বর্তমান সিটি মেয়র ডা.সেলিনা হায়াৎ আইভী রাশিয়ায় চিকিৎসা শাস্ত্রে পড়াশোনা করতে চলে যান। সেখানে গিয়ে লেখাপড়া শেষ করেন। দেশে এসে কিছু দিন ইন্টার্নি করে চলে যান নিউজিল্যান্ড।

এ সময় তাকে দলের নেতা কর্মীরা  নেতৃত্বে চাইলে তিনি বলেন, এখনো সময় আসেনি। বাবার আদর্শ অবশ্যই পালন করবো। দেখতে দেখতে সময় যায়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। কিন্তু গুটি কয়েক লোকের বিতর্কিত ভূমিকার কারণে আওয়ামী লীগ ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে হেরে যায়। আবার দুর্দিন ঘনিয়ে আসে।

এ সময় ১৮ বছর পর ২০০২ সালে শেষ ভাগে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হয়। আলী আহমেদ চুনকার বড় ছেলে মোহাম্মদ আলী রেজা রিপন ভেবে দেখেন এখনি সময় দলের জন্য মানুষের জন্য আবার কাজ শুরু করার। তিনি ডা. আইভীকে ফোন করে বিশদ জানান।

ডা. আইভী সব ভেবে চিন্তে রাজি হন এবং দেশে ফেরেন। সে দিন ছিল মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। পথে নামলেন কয়েকজন। সামনে যাচ্ছিলেন যতো ততোই মানুষের সংখ্যা বাড়াছিল। এক সময় জন¯্রােতে রূপ নেয় কয়েক জনের মনোনয়ন জমা দেয়ার পথচলা ।

যাত্রার শুরু তখন ক্ষমতায় বিএনপি। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী হন নূরুল ইসলাম সরদার। তাকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে আবার আলী আহাম্মদ চুনকার চেয়ারটি পুনরুদ্ধার করেন তার সন্তানরা। সাথে ছিল আপামর জনতা।

ডা. আইভী এ প্রসঙ্গে বলছিলেন, তাঁর স্বাধ ছিল অন্তত একদিনের জন্য হলেও যেনো বাবার আসনে বসার সৌভাগ্য নসিব করেন মহান আল্লাহ । বস্তুতপক্ষে সৃষ্টি কর্তা সেই প্রার্থনা কবুল করে তাকে এই জনপদ বাসীর জন্য রহমত স্বরূপ আবির্ভাব ঘটান।

২০০৩ সালে আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে অনেক নেতা রাতের বেলায় বাইরে বের হতেন। অনেকে ছিলেন পালিয়ে। ডা. আইভীর নেতৃত্বে সে সময় সবাই সমবেত হতে থাকেন এমন কি শামীম ওসমান বলয়ের  নেতাকর্মীরা পর্যন্ত। এমন নেতৃত্ব শুধু নারায়ণগঞ্জকে নয়, সারা বাংলাদেশকে উজ্জীবিত করেছিলো।

এরপর তারাব ও কাঞ্চন পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সফলতা পায়। অন্যান্য স্থানীয় নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ ভালো করতে থাকে। ২০০৪ সালে শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলা হলে ডা.আইভী ও উজ্জল  নগরীতে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করেন।

ওয়ান ইলেভেনের সময় শেখ হাসিনা গ্রেফতার হলে  তাদের নেতৃত্বে আবারো জোরালো ভূমিকা নেন। সময়  পেরিয়ে আবারো আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে তবে এবারের অভিজ্ঞতাটা আসে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের মতো। তখন তার বাবার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ২ জন আওয়ামী লীগ নেতা। ২০১১ সালের সিটি নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হন শামীম ওসমান।

ঠিক সেই রকম হয়, যেমনটা বঙ্গবন্ধুর সাথে আলী আহাম্মদ চুনকা দেখা করতে গেলে তাকে বলেন বাপের বেটা। আর ২০১১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে গণভবনে গেলে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা ডা. আইভীকে জড়িয়ে ধরে বলেন বাপের বেটি।

মেয়র আইভীকে ২০১০ সাল থেকেই নানা ভাবে হয়রানীর চেষ্টা চালায় শামীম ওসমান। কিন্তু একটিবারও তিনি সফল হন নি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ঠিক তেমন অবস্থার সৃষ্টি হয়। যেমনটা ১৯৭২ থেকে ৭৫ এবং ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত একটি মহল করেছিল।

এবার পিতার পদাঙ্ক অনুসরন করে ডা. আইভী তীব্র প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। যার কারণে তার গ্রহণ যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা আরো বেড়ে যায়। ফলে ২০১১ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন ডা.আইভী।

 মেয়াদ শেষ হলে ২০১৬ সালে আবারো সিটি করপোরেশন নির্বাচন আসে। সব কিছু বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে মনোনয়ন দেন।

এ সময় নানা ষড়যন্ত্র চলে আইভীকে পরাজিত করার। কিন্তু কেন্দ্রের কঠোর অবস্থান আর নারায়ণগঞ্জের মানুষের সচেতনতা ডা. আইভীকে নিরঙ্কুশ বিজয় এনে দেয়। এবার আর রাখঢাক নেই। গণভবনে যেতেই মেয়র আইভীকে কাছে পেয়ে জড়িয়ে ধরেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

এখন এই সব উচ্ছাসের বিষয় হতে পারে অনেকের কাছে। অনেকে ক্ষমতা উপভোগও করেন। কিন্তু চুনকার সন্তান হয়ে ডা.আইভীকে তেমনটা করেন নি। করেন নি তার ছোট ভাই  মো.আলী রেজা রিপন কিংবা আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জল।

একবারে সাদামাটা জীবন যাপন তাদের। যে কেউ মিশতে পারে কাছে যেতে পারে মনের কথাটিও খুলে বলতে পারেন। তবে মন্দদের থেকে দূরে থাকলেও এদের ভালো করার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যায়  দেখা অদেখায়। আলী আহাম্মদ চুনকার দুই ছেলেকে দেখলেই বুঝা যায় তারা আগামীর প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ফেলেছেন যে কোন দায়িত্ব পালনের জন্য।

বেদনাময় স্মৃতি ১৯৮৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি শেষ রাতে পরপারে চলে যান জননেতা ও নকশাবন্দ তরিকার অন্যতম খলিফা আলী আহাম্মদ চুনকা। কান্নার রোল পড়ে যায়। সবাই কাঁদছেন। কে কাকে শান্তনা দেবেন। সবাই দিক হারা হয়ে যান। সে এক নিদারূন কাহিনী। অল্পতে তুলে ধরা সম্ভব নয়।

আলোচ্য বিষয় হচ্ছে সেই অবস্থা থেকে ঘুরে দাড়ানোর ঘটনাবলী। উত্থান পতনের দুনিয়াতে ১৯৮৪ সালে ফেব্রুয়ারিতে চুনকা পরিবারের পতন ঘটেনি। সাময়িক একটা কঠিন পরিস্থিতি এসছিল শুধু । যা পরবর্তী প্রজন্ম বেশ দক্ষতার সাথে মোকাবেলা করে বর্তমান অবস্থানে এসেছেন। লক্ষ্যস্থির করে শত কষ্ট ও বাধা আসার পরেও পথে অবিচল থাকাই তাদের সফল করেছে।

নারায়ণগঞ্জের মানুষের জন্য এই পরিবারটি এখন সহায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আলো ছড়াচ্ছে অন্ধকার ও নোংরা রাজনীতির চোরা গলি পথে। ছোটরা বলেন আমি বড় হয়ে মেয়র আইভীর মতো হব, কেউ বা বলেন আমি চুনকার সন্তানদের মতো হব।

এই বিভাগের আরো খবর