রোববার   ০৫ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ২১ ১৪২৬   ১১ শা'বান ১৪৪১

আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে : ফারুক

প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

স্টাফ রিপোর্টার : নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) আগামী নির্বাচন ও ১নং ওয়ার্ডে আমার ব্যাপক জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকার অপপ্রচার করে আসছে এবং ওই মহলটি আমার আওতাভুক্ত এলাকার একচ্ছত্র উন্নয়নকে বিভিন্ন কৌশলে বাঁধাগ্রস্থ করে আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা বিবৃতিও দিচ্ছে।

 

 

আমি নির্বাচনে বিজয়ের পর কাউন্সিলর হিসেবে শপথ গ্রহণ করে আমার এলাকাবাসীর সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেই। সকলের সুখ-দুঃখ নিজের মধ্যে ভাগ করে নেয়ার চেষ্টা করি।

 

তাই বলছি, কোন অপশক্তি ও কোন অপপ্রচার মানুষের সেবা থেকে আমাকে দূরে সড়াতে পারবে না এবং এলাকার চলমান উন্নয়নের সকল কাজ নাসিকের পরিকল্পনা অনুসারেই সম্পন্ন হবে বলে আমি আশাবাদী। 

 

বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে নাসিক ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ওমর ফারুক এসব কথা জানান।

 

বিবৃতিতে কাউন্সিলর ওমর ফারুক উল্লেখ করেন, সম্প্রতি নাসিকের একটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ (আরসিসি রাস্তা ও ড্রেনের কাজ) একটি মাত্র ব্যক্তির কারণে বাঁধাগ্রস্থ হয়েছে। ১নং ওয়ার্ডের পাইনাদী নতুন মহল্লায় ৩৭ লাখ টাকায় ব্যয়ে বাদলের বাড়ির সামনে থেকে কুমিল্লা টাওয়ার পর্যন্ত সাড়ে ৪০০ ফুট দৈর্ঘ্য রাস্তাটির নির্মাণ কাজ চলমান ছিলো।

 

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বুধবার চাঁন মিয়া নির্মাণরত রাস্তার মাঝখানে লোহার এঙ্গেল দিয়ে কাজের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে কাজ বন্ধ করে দেন। এ ঘটনার সময় আমি এলাকায় ছিলাম না, বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মী ও এলাকাবাসী বিষয়টি নিয়ে আমাকে ফোন করলে আমি ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পারি।

 

অপরদিকে, জানতে পারি এ রাস্তার কাজ বন্ধ করে দেয়ায় চাঁন মিয়ার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠে এলাকাবাসী। এ ঘটনায় নাসিকের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

 

এ ঘটনার সাথে আমি কোনভাবেই সম্পৃক্ত নই । কিন্তু অভিযুক্ত চাঁনমিয়া আমার বিরুদ্ধে নানা রকম মিথ্যা তথ্য দিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। যা বিভিন্ন স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়ে থাকে। তা আমার দৃষ্টিগোচর হয়। সংবাদ সম্মেলনে আমাকে জড়িয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে বিভিন্ন প্রকার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও বিভ্রান্তিকর মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এতে আমি বিস্মিত হই। 

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংবাদ সম্মেলনে আমাকে সাত খুনের প্রধান আসামি নুর হোসেনের অস্ত্রের ভাণ্ডারের রক্ষক বলে উল্লেখ করা হয়। মূলত নুর হোসেনের সাথে আমার কোনদিনও সখ্যতা ছিলনা। উল্টো নুর হোসেন আমাকে বিভিন্ন ভাবে হামলা-মামলা-মোকদ্দা করে হয়রানী করেছিল।

 

আমি আমার ওয়ার্ডের বিভিন্ন ফুটপাত ও পরিবহন স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি বন্ধে বিভিন্ন প্রদক্ষেপ নেই এবং চাঁদাবাজদের উৎখাত করি। অথচ চাঁনমিয়া আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। তাকে আমি গভীর শ্রদ্ধাবোধ এবং সম্মান করি। তিনি আমার বিরুদ্ধে আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করবেন বলে একাধিক সূত্র জানায়।

 

আমি মনে করি নির্বাচনকে ইস্যু করে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এসব মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে। চাঁনমিয়া নুর হোসেনকে ব্যবহার করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আমিজ উদ্দিন পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন বিরোধপূর্ণ একটি জমিতে ফজর আলী গার্ডেন সিটি নামে একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবন গড়ে তুলেন। যা সিদ্ধিরগঞ্জের ১নং ওয়ার্ডবাসীসহ সকলেরই জানা।

 


কাউন্সিলর ওমর ফারুক উল্লেখ করেন, সাত খুনের ঘটনার পর অনেকেই এলাকা ছাড়া হলেও আমি আমার এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে নিয়োজিত ছিলাম। এ ঘটনার সূত্র ধরে আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ ও মামলা-মোকদ্দমা হয়নি। আমি এলাকায় মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রুখতে পঞ্চায়েতের মুরব্বীসহ যুব সমাজকে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।

 

আমি মনে করি, এ কারণেই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে ওই সমস্ত অপরাধ কর্মকাণ্ডগুলো নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতে চাঁন মিয়াসহ ওই মহলটি উঠে পড়ে লেগেছে। তারপরও এলাকাবাসীর শান্তি-শৃঙ্খলা ও জীবন মান উন্নয়নের জন্য আমি আমার কাজ চালিয়ে যাব।

 


এদিকে, চাঁন মিয়া সংবাদ সম্মেলনে বলেন আমি নাকি তার চুনা ফ্যাক্টরিতে চাঁদা দাবি করেছি। আর চাঁদা না দেয়ায় তার লোকজনকে মারধরও করেছি। কিন্তু সে এ ব্যাপারে থানায় কোন অভিযোগও করেননি। অথচ তার চুনা ফ্যাক্টরির পাশেই আমার চুনা ফ্যাক্টরি। গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে আমার প্রশ্ন কোন ফ্যাক্টিরর মালিক কী অন্য ফ্যাক্টরির মালিকের কাছে কখনো চাঁদা দাবি করতে পারে?

 

আর আমার বাবা চুনা ফ্যাক্টরি মালিক সমিতির সভাপতি। যদি চাঁন মিয়ার কাছে চাঁদা দাবি করে থাকি অন্য ফ্যাক্টরির মালিকরাতো বাদ থাকতো না ? তাদের সাথে একটু যোগাযোগ করে দেখেন আমি কোন দিন কারো কাছ থেকে চাঁদা দাবি করেছি কি-না।  

 


ওমর ফারুক জানান, আমি জানতে পারি চাঁন মিয়া একসময় বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি ৯৬ সালে বিএনপির আমলে জালকুড়ি আওয়ামী লীগের একটি অফিসের বোমা হামলার আসামি ছিলেন। তার অত্যাচারে অনেক নীরিহ আওয়ামী লীগ নেতারা ঘর বাড়ি ছাড়া ছিলো।

 

পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আশার পর গাঁ-ঢাকা দেন তিনি। পরে তিনি বনে যান নানান ধরনের নেতা। বর্তমানে তিনি স্বার্থ সিদ্ধির জন্য নিজেই প্রতিষ্ঠা করেন বঙ্গবন্ধু কর্মজীবী লীগ নামে একটি সংগঠন। এ নিয়েও বিভিন্ন বিরোধ তৈরি হয়েছে। মূলত এ চাঁন মিয়ার লক্ষ্য নাসিকের র্নিমাণ কাজ বন্ধ করা, মেয়র আইভীর উন্নয়নকে বাঁধাগ্রস্থ করা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের অর্জনকে বিনষ্ট করা। 

 

তবে যত ষড়যন্ত্রই হউক না কেন, আমি আমার এলাকার উন্নয়নে কাজ করে যাব। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অতীতের মতই বর্তমান এবং ভবিষ্যতেও আমার এলাকার সকলকে নিয়ে নিয়োজিত থাকবো।

এই বিভাগের আরো খবর