শনিবার   ০৪ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ২১ ১৪২৬   ১০ শা'বান ১৪৪১

আনোয়ার, খোকন সাহা দু’জনেই সভাপতি হতে রাজি

প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

যুগের চিন্তা রিপোর্ট : আসন্ন মহানগর আওয়ামী লীগ কমিটি গঠন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে এখন দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক আলোচনা চলছে। আগামী মার্চের মধ্যে এ কমিটি গঠনে কেন্দ্রের প্রচণ্ড চাপ রয়েছে। 


সময়ের স্বল্পতার কারণে এখন আর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিল করে গণতান্ত্রিক ভাবে মহানগর কমিটি গঠনের যে কোন সুযোগ নেই, তা সবার জানা। কারণ, সাত বছরে যা হয়নি তা সাত দিনে হবে, এটা মোটেই বিশ^াসযোগ্য নয়। 

 

তাই, যেনতেন প্রক্রিয়ায় একটি মহানগর কমিটি আসছে, তা অবশ্যাম্ভাবী। এদিকে, এ কমিটি দখলে ইতিমধ্যেই আওয়ামী লীগে মেরুকরণ শুরু হয়ে গেছে। বিভিন্ন আলোচনায় সভাপতি ও সেক্রেটারী পদাভিলাষী বেশ ক’জনের নামও শোনা যাচ্ছে।


বিভিন্ন সূত্রে আসন্ন মহানগর সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ উপ কমিটি সদস্য কামাল মৃধার কথা শোনা গেলেও আনোয়ার হোসেন নিশ্চিত করেছেন তিনি আগামীতে প্রার্থী হচ্ছেন না। তবে, দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা যদি বলেন, তাহলে অন্যকথা।


এ ব্যাপারে আনোয়ার হোসেনের বক্তব্যেরই যেন প্রতিধ্বনি তুলেছেন এড. খোকন সাহা। গতকাল আসন্ন মহানগর কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে তার চিন্তা ভাবনা জানতে চাইলে খোকন সাহা বলেন, কারো সঙ্গে কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা তার নেই। তবে, শেখ হাসিনা চাইলে তিনি সভাপতি হতে রাজি আছেন।


এদিকে, কামাল মৃধার কাছে আপনার অবস্থা কেমন বুঝছেন, জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ছাত্র রাজনীতি থেকেই আমি প্রতিযোগিতা বিশেষ করে গনতান্ত্রিক প্রতিযোগিতা পছন্দ করি এবং তাতে অংশগ্রহণ করি। 


জয়, পরাজয় বা বাদ পড়াকে আমি খেলার অংশ হিসেবে খেলোয়াড়ী মনোভাবেই মেনে নেই। দুর্জনেরা এটাকে ‘খাউজানী’ মনে করলে বলতে হয়, এটা অবশ্যই গনতান্ত্রিক খাউজানী।

 

তিনি আরও জানান, আসন্ন মহানগর আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে আমাদের একটি প্যানেল থাকবে। আমাকে যারা চেনেন তারা অবশ্যই জানেন আমার প্রতিপক্ষ কে হতে পারে এবং কাদের আমি সমর্থন পেতে পারি। এখন থেকেই প্যানেলের পক্ষে সাড়া পাচ্ছি। 


অনেকে এ প্যানেলে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আবার কেউ কেউ নেতিবাচক কারণেও সমর্থন জানাচ্ছে। তবে সবার জানা, কামাল মৃধার কোন বাহিনী নেই এবং চাঁদাবাজিও নেই। মহানগরের দায়িত্ব পেলে এ কমিটির প্রথম কাজ হবে, দলে ‘লাঙ্গলমার্কাদের’ চিহ্নিত করা এবং তাদের সমূলে উচ্ছেদ করে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করা। 


কারণ, এক যুগ ধরে আওয়ামী লীগের কাধে লাঙ্গল তুলে দেয়ায় সাংগঠনিক ভাবে আওয়ামী লীগ  হয়ে গেছে এবং কর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছে।


রাজনৈতিক মহলের মতে, আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে নারায়ণগঞ্জ শহর উত্তর-দক্ষিণে বিভক্ত। উত্তরের প্রতিভূঁ এমপি শামীম ওসমান এবং দক্ষিণের মেয়র আইভী। আসন্ন মহানগর কমিটি নিয়েও এ ভেদরেখা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। 


বর্তমান মহানগর সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা সভাপতি পদে প্রতিযোগিতা না করলে শামীম ওসমান বলয় সমস্যায় পড়বে। তবে শামীম বলয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে শক্তিশালী প্রার্থী হলেন মহানগর আওয়ামীলীগের বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহনিজাম। 


ওদিকে, একই সমস্যা আইভী শিবিরেও। এখনো তারা যুৎসই কোন সভাপতি প্রার্থী খুঁজে পায়নি। তবে শোনা যাচ্ছে, আইভীর ছোট ভাই মহানগর আওয়ামী যুবলীগ সাধারন সম্পাদক আহমদ আলী রেজা উজ্জ্বল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক প্রার্থী। 


তবে, সভাপতি পদে ফাঁকা মাঠে একাই কামাল মৃধা গোল দেবেন, তাও হতে পারে না। সময় মতো অবশ্যই কেউ না কেউ বেরিয়ে আসবেন। এখনো কাউন্সিলের তারিখই ঘোষণা করা হয়নি। 

এই বিভাগের আরো খবর