সোমবার   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯   ভাদ্র ৩১ ১৪২৬   ১৬ মুহররম ১৪৪১

আদালত পাড়ায় এডভোকেট জাসমিন’র উপর হামলা, প্রতিবাদে মানবন্ধন

প্রকাশিত: ৩০ মে ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : আদালত পাড়ায় জেলা আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) এডভোকেট জাসমিন আহমেদের উপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে তার স্বামী ও দেবরের বিরুদ্ধে। এ হামলার ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (৩০ মে) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছে রং মেলা নারী কল্যান সংস্থা। 


রংমেলা নারী কল্যান সংস্থার সভাপতি সোনিয়া দেওয়ান প্রিতির সভাপতিত্বে মানব বন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম কাদির, য্বু কমান্ডের সভাপতি সেলিম আহম্মেদ, বাংলাদেশ জনদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান, মহিলা সম্পাদিকা রুনা জামাল, আবু হাশেম সরকার, মানবাধিকার কর্মী শান্তা ফারজানা প্রমূখ। 


মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, আদালত পাড়ায় একজন আইনজীবীর উপর হামলা এটা আদালতের অবমাননার শামিল। কারন আদালতেই একজন অপরাধী আইনজীবীর উপর হামলা চালিয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সাথে সাথে হামলাকারী আবু নকিব, আবু নাছের এর দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী জানাই।


দেশে আজ আইনের শাসন নেই। আইনের শাসক যদি প্রতিষ্ঠিত থাকতো তাহলে মেয়েরা কথায় কথায় নির্যাতিত হত না। মেয়েরা আজ সমাজে অবহেলিত হত না। 


উল্লেখ্য, ২৯মে বুধবার সকালে নারায়ণগঞ্জ চিফ জুুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বারান্দায় জেলা আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট জাসমিন আহমেদ তার স্বামী পুলিশ কর্মকর্তা ও তার দেবরের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন। এক পর্যায়ে জাসমিন অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান অন্যান্য আইনজীবীরা। 

 

এর আগে গত ১৩ মার্চ বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ এডিএম জ্যোতিকা যুথি সরকারের কক্ষে একটি মামলার বিষয়ে শুনানি করতে গেলে ওই পুলিশ কর্মকর্তার দ্বারা এই মারধরের শিকার হন নারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাসমিন আহমেদ। 

 

তবে ওই সময় এডিএম তার কক্ষে ছিলেন না। তার সহকারী আবদুর রহমান দাবি করেছেন ওই সময় এডিএমের কক্ষে কেউ ছিল না। ওই দিনও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন জাসমিন আহমেদ।
 
ঘটনা সূত্রে জানা গেছে, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) আবু নকিবের স্ত্রী অ্যাডভোকেট জাসমিন আহমেদ। আবু নকিব ঢাকা মহানগর পুলিশের সার্কেল অফিসার। আর স্ত্রী অ্যাডভোকেট জাসমিন আহমেদ নারায়ণগঞ্জ জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি। 


গত ৫ মার্চ নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে স্বামী আবু নকিবের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে মারধরের অভিযোগে একটি মামলা করেন অ্যাডভোকেট জাসমিন আহমেদ। ওই মামলাটি আদালত তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ এডিএমকে দায়িত্ব দেন।


ওই মামলায় জাসমিনের স্বামী পুলিশ কর্মকর্তা আবু নকিবকে প্রধান আসামি করা হয়। নকিব ছাড়াও নকিবের ভাই মো: নাছের নিপুণ, বোন জুবরিয়া বেগম, অপর ভাই মো: আবু নোমান সজন ও ভাইয়ের স্ত্রী শিরিন আক্তার হিরাকে আসামি করেন জাসমিন আহমেদ।


মামলা সূত্রমতে, সন্তানদানে অক্ষম জেনেও জাসমিন আহমেদের সঙ্গে ২০০৭ সালের ১৪ মে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মো: নকিব। বিয়ের পর স্ত্রীর কাছে ৫০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে তার উপর অত্যাচার করতে থাকেন স্বামী।


দাবি করা হয়- নিজ বিবাহজীবন সুখে-শান্তিতে কাটানোর জন্য স্বামীকে ১২লাখ টাকার একটি প্রাইভেটকার, ১টি মোটরসাইকেল ও ঢাকায় জমি কেনার জন্য নগদ ৫০ লাখ টাকা দেন জাসমিন।


মামলায় আরো দাবি করা হয়- জাসমিনের স্বামী নকিব সম্প্রতি চালচলন পরিবর্তন করে উগ্র জঙ্গিবাদী সংগঠনে জড়িয়ে পড়েন। তিনি ইসলামের অনেক অপব্যাখ্যা দিয়ে জাসমিনকে তার দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করেন। এ ছাড়া প্রায়ই জাসমিনকে হত্যার চেষ্টা করেন। 


এর মধ্যে মোটরসাইকেল থেকে একবার ফেলে দিয়ে, আরেকবার ঘুমের মধ্যে গলাটিপে ধরে এবং বালিশচাপা দিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছিল।
মামলা দায়েরের পর জাসমিন আহমেদ বলেছিলেন, আমাকে না জানিয়ে আরো দুটি বিয়ে করেছে নকিব। পরে জাসমিন আহমেদের খোঁজ-খবর নেয়া বন্ধ করে দেন। ২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর জাসমিনের সঙ্গে দেখা করেন নকিব। সে সময় মারধর করে নগদ ৫ লাখ টাকা, ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, দলিল ও বিভিন্ন ডকুমেন্ট নিয়ে চলে যান।
 

এই বিভাগের আরো খবর