বৃহস্পতিবার   ১৪ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ৩০ ১৪২৬   ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

আদালতপাড়ায় প্রকাশ্যে এড.সাখাওয়াতকে লাঞ্ছিত

প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী ফোরামের নতুন সদস্য সংগ্রহের কার্যক্রম নিয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও এড.আব্দুল বারী ভূঁইয়ার মাঝে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। 

রোববার (৩ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে নারায়ণগঞ্জ আদালত পাড়ায় এড.আজিজুর রহমান মোল্লার চেম্বারের সামনে এই হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন এড.আব্দুল হামিদ খান ভাষানী। আদালতপাড়ায় এড.সাখায়াত হোসেন খান লাঞ্চিত করার ঘটনায় পুরো আদালত পাড়ায় থমথমে অবস্থার সৃষ্টি হয়। আর  নিজ দলীয় আইনজীবীদের হাতে এড.সাখায়াতের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় আদালত পাড়ায় সর্বস্তরের আইনজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।    

 

এঘটনা সম্পর্কে নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম নেতা এড.আব্দুল বারী ভূঁইয়ার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাতাহাতির কোন ঘটনা ঘটেনি। ওনার (সাখাওয়াত ) প্রতি বিভিন্ন মানুষের রাগ আভিমান আছে। আমি কেন তাকে মারতে যাবে। যদি করতাম তাহলে আগেই করতাম । সে (সাখাওয়াত) আমাকে বার বার আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে দাঁড় করিয়ে সরে যায়। আর আমি কেনো তাকে কলার ধরে মারতে যাবো। আমি মারিনি। মারলে ক্ষুদ্র কর্মীরা মারতে পারে। ক্ষুদ্র জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের অনেক কর্মীরাই রয়েছে যারা তার উপর ক্ষিপ্ত। সে হজ্বে গিয়া পবিত্র কাবা শরীফ থেকে আইসা ২০১৬ সালে আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে উইজডম গিয়া নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি একেএম সেলিম ওসমানের কাছ থেকে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা নিয়া আসে। সে আইনজীবী সমিতির নির্বাচন বেঁেচ টাকা নিয়া গেছে। সে বেইমানি করছে তখনও কোন প্রতিবাদ করেনি। 

 

তিনি আরোও বলেন, গত বৃহস্পতিবার আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও তৈমর আলম খন্দকারসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ নারায়ণগঞ্জ আদালত পাড়ায় আইসা  ফোরামের নতুন সদস্য নবায়নের কার্যক্রমের উদ্বোধন করে আমাদের ৮ জনকে দায়িতসহ ৪০০ নতুন সদস্য ফরম দিয়ে যায়।  এবং এ ৮ জনকে সমন্বয় করে সদস্য সংগ্রহ কাজ করতে বলেন।আমরা আজ মিটিংয়ে বসেছিলাম বসে বলি যেহেতু ৪০০ ফরম তাহলে ৫০টি করে ভাগ ভাগ করে আটজনকে দিয়া দেন। কারণ দলের দুঃসময়ে কেউ প্রকাশ্যে ফোরামের সদস্য হতে চাইবে না। কারণ মামলা ও হামলার ভয়ে কেউ সদস্য হবেও না। যেহেতু খাতা আপনার কাছেই আছে, তাহলে আপনার কাছেই থাক।

আমরা নতুন সদস্য সংগ্রহ করে আপনার কাছে এসে জমা দিবো। পরে আপনি খাতায় অন্তর্ভূক্ত আপনিই কেন্দ্রে জমা দিয়েন। সাখাওয়াত এতে অনিহা প্রকাশ করে এবং জোর করে ফরম নিয়া যায়। এ নিয়া আমাদের মাঝে বাকবিতন্ডা হয়। কোনো হাতাহাতির ঘটনা ঘটেনি। আমাদের মাঝে কিছুই হয় নাই । কর্মীদের সাথে সাখাওয়াতের হইছে। আর উনি তো মার খেতে খেতে অভ্যস্ত। ছিনতাইকারীরা তাকে মারছে, বিএনপির টিপু পিটাইছে, আজাদ বিশ্বাসসহ বহু লোকেই পিঠাইছে। মার খাইয়া বেহাইয়ার মতো বানাইয়া বানাইয়া মানুষের কাছে কয় আমারে মারছে। আর আমরা তো ওনার মতো বেহাইয়া না আমাদের বেলা এসব ঘটনা ঘটলে আমরা চুপচাপ চলে আইতাম। মানুষের কাছে বেহাইয়ার মতো বলে বেড়ায় সাখাওয়াত।

 

ঘটনার বিষয়ে মহানগর বিএনপির সহ আইন বিষয়ক সম্পাদক এড.শরীফুল ইসলাম শিপলু বলেন, বিষয়টি আইনজীবী  ফোরামের হলেও আজকের বিষয়টি ফোরামের। বৃহস্পতিবার মাহবুব উদ্দিন খোকন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করে নারায়ণগঞ্জের আট জনের পক্ষে নতুন সদস্য সংগ্রহের বই এড. সাখায়াত হোসেন খান ও এড.আব্দুল বারী ভূঁইয়ার কাছে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। বারী সাহেব নামাজে থাকার কারণে সাখায়াত সাহেব সব ফরমগুলি তার কাছে নিয়া যান। তিনি বলেন আমরা সবাই বসে সিদ্ধান্ত নিয়া ফরমগুলো পূরণ করবো। আজকে এ নিয়ে বসার কথা ছিলো। প্রথমে কথা ছিলো বারী ভাইয়ের চেম্বারে বসবো কিন্ত সাখায়াত ভাই নাকি বারী ভাইয়ের চেম্বারে বসবে না। তিনি তা এড.ভাষানী ভাইকে তা জানাইছে এবং পরিবর্তীতে সাখায়াত সাহেব গিয়ে ভাষানী ভাইয়ের টেবিলে বসে। তখন দায়িত্ব প্রাপ্ত ৮ জনের মধ্যে ৬ জন এড.সাখায়াত হোসেন খান, এড.আব্দুল বারী ভূঁইয়া, এড.আব্দুল হামিদ খান ভাষানী, এড. সরকার হুমায়ুন কবির, এড.খোরশেদ আলম মোলা, এড.আজিজ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, আমি ছিলামনা। আমি আমার পেশাগত কাজে আমার টেবিলে বসে ছিলাম। তারা ৪/৫ ভাষানী ভাইয়ের টেবিলে বসে আছেন। হঠাৎ দেখলাম সাখাওয়াত ভাইয়ের শার্ট ছেড়া। তার হাতে কতোগুলো ফরম নিয়া দৌঁড়ে গেইট দিয়া বের হয়ে যাইতাছে। আমরা দৌঁড়ে ঘটনাস্থলে যাই। 

 

এড,আব্দুল হামিদ খান ভাষানী বলেন, ঘটনাটি এড.আজিজুর রহমান মোল্লার চেম্বারের সামনে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে এড.সাখাওয়াত হোসেন খান ফরমের বিষয় নিয়ে এড.বারী ভূইয়াকে হাত দিয়ে ধাক্কা দেয়। এড.বারী ভূইয়া সাখাওয়াত হোসেনের কলার চেপে ধরে। দুইজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে আমরা দুজনকে সরিয়ে দিয়েছি। হুমায়ুন ও খোরশেদ মোল্লার পাল্লায় পড়ে সাখাওয়াতকে লাঞ্চিত হতে হয়েছে।  

 

মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এড.আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, আমি তখন আদালতপাড়ায় ছিলাম। সাখাওয়াতকে মেরে থাকলে ভালো কাজ করেছে। সে মার খাওয়ার লোকই।   

এবিষয়ে এড.সাখাওয়াত হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি পরে কথা বলবে বলে মুঠোফোনের লাইন কেটে দেন ।
 

এই বিভাগের আরো খবর