বুধবার   ২৩ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৮ ১৪২৬   ২৩ সফর ১৪৪১

আদমজী ইপিজেডের কাস্টমসের যোগসাজসে মূল্যবান মালামাল পাচারের অভিযোগ

প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী ইপিজেডে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে গার্মেন্টস  পণ্য (মালামাল) বের করার ঘটনা নতুন কিছু নয়। একটি অসাধু ব্যবসায়ি চক্র ফ্যাক্টরীর ও কাস্টমসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের যোগসাজসে অর্ডারের চেয়ে অতিরিক্ত মালামাল পাচার করে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

 

এতে ওই ব্যবসায়ি চক্র লাখ লাখ টাকার মালামাল মাল হাতিয়ে নিচ্ছে। বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা পাচ্ছে ফ্যাক্টরী ও কাস্টমসের দুর্নীতিবাজ কতিপয় কর্মকর্তারা। আর বেপজা তথা সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার সিদ্ধিরগঞ্জে নাসিক ৬নং ওয়ার্ডের পানি আকতার কয়েক লাখ টাকার মালামাল বের করে নিয়ে গেছে। 

 

আদমজী ইপিজেডের একাধিক সূত্র জানায়, সোমবার দুপুরে আদমজী ইপিজেড থেকে দুইটি ভ্যান  আদমজী ইপিজেডস্থ কাস্টমস গেইটে না দাড়িয়ে দ্রুত গতিতে ইপিজেডের প্রধান ফটক দিয়ে বের হয়। এসময় কাস্টমসের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের সহায়তায় আদমজী ইপিজেডের প্রধান ফটক থেকে মালামাল বের করে দুইটি ভ্যান যোগে নিয়ে যাওয়া হয়। 

 

দুইটি ভ্যানে করে ৭৫টির উপরে ড্রাম ভর্তি মালামাল বের করা হয়েছে। মালামালগুলোর মধ্যে রয়েছে-লোহার স্ক্র্যাপ, লোহার এঙ্গেল। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পানি আক্তার দীর্ঘদিন ধরে আদমজী ইপিজেডের ভেতর ইপিক গার্মেন্টসের ডিজিএম নূর নবীর সাথে গোপন আতাত করে মালামাল বের করছে। ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে পানি আকতার দিনের পর দিন এই অপকর্ম করে যাচ্চে। সে ৬নং ওয়ার্ডের মতির অনুসারী ও এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবেই পরিচিত। এআগে সে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গিয়েছিল। 

 

জামিনে বেরিয়ে ফের তার অপকর্ম শুরু করে। নিজেই একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছে। গত বছর সুমিলপাড়া মুনলাইটের পিছনে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের একটি অফিস ভাংচুর করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। 

 

এদিকে এ ঘটনায় আদমজী ইপিজেডের প্রকৃত ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রচন্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা বলেন, আমরা নিয়মিত ভ্যাট ট্যাক্স পরিশোধ করে ব্যবসা করছি। এতে অনেক সময় আমাদের লস গুনতে হয়। আর সন্ত্রাসীরা কাষ্টমসকে মালের চালানে ভূল ঘোষনা দিয়ে দামি দামি মাল নিয়ে যায় তাও আকার ভ্যাট ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে। 


এতে ভবিষ্যতে তারা চরম ক্ষতির মূখে পড়বে দাবি জানিয়ে বলেন এ ঘটনাটি সুষ্ঠ তদন্ত করলে এর সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করা যাবে। এতে সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়বে অন্যদিকে তারাও মালের সঠিক মূল্যমান পাবে। 

 

ওদিকে মালামাল বের করার বিষয় জানাজানি হলে কাস্টমস কর্মকর্তারা বিকেলের দিকে পানি আকতারের সাথে যোগাযোগ করে মালামালগুলো ফিরিয়ে এনেছে বলে দাবী করেছে সাংবাদিকদের কাছে ।
 

এই বিভাগের আরো খবর