শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৫ ১৪২৬   ২০ মুহররম ১৪৪১

আজ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পালিত হচ্ছে ঈদুল আজহা

প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০১৯  

ডেস্ক রিপোর্ট (যুগের চিন্তা ২৪) : চাঁদপুরের পাঁচটি উপজেলার ৪০গ্রামে, শরীয়তপুরের ছয় উপজেলার ৩০টি গ্রামে, জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ১৩টি গ্রামে, সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলায়, দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ১৫টি গ্রামে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আটটি গ্রামে, পটুয়াখালীর ২২টি গ্রামে, মৌলভীবাজারে ও শেরপুরের ছয়টি গ্রামে আজ রোববার (১১ আগস্ট) পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হচ্ছে।


সৌদির সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের পাঁচটি উপজেলার ৪০ গ্রামে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা।জেলার হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ, মতলব উত্তর, শাহরাস্তি ও কচুয়া উপজেলার ৪০টি গ্রামের হাজারো মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করেন।


রোববার সকাল ৯টায় হাজীগঞ্জের সাদ্রা হামিদিয়া সিনিয়র মাদরাসা মাঠে ঈদের নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা মো. আরিফুল্লাহ।


মুন্সীরহাট জামে মসজিদ, টোরা মুন্সীরহাট ঈদগাহ ময়দানসহ বিভিন্ন স্থানে ঈদের জামাত সকাল ৯টায় ও ১০টায় শুরু হয়েছে। এছাড়া ফরিদগঞ্জের কামতা, বদরপুর, বাচপাড়, মুলপাড়া, কাইতয়াড়া, সুরঙ্গচাল, বাসারা, লক্ষ্মীপুরে ঈদের জামাত হয়।


১৯২৮ সালে হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবারের পীর মাওলানা ইসহাক (রহ) বাংলাদেশে এ মতটি প্রথম চালু করেন। পরবর্তীতে তার অনুসারীরা চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল না হয়ে প্রতিটি ধর্মীয় উৎসব সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পালন করেন।


শরীয়তপুরের ছয় উপজেলার ৩০টি গ্রামে সুরেশ্বর পীরের অনুসারীরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আজ রোববার ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন। সুরেশ্বর পীরের অন্তত ১০ হাজার ভক্ত আজ ঈদের নামাজ আদায় করেন।


সুরেশ্বর পীরের দরবার সূত্র জানায়, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে প্রায় ১শ বছর ধরে সুরেশ্বর পীরের দরবারের সকল ভক্ত ও মুরিদরা একই নিয়মে ঈদ পালন করে থাকেন। জেলার সুরেশ্বর, চন্ডিপুর, ইছাপাশা, থিরাপাড়া, ঘড়িষার, কদমতলী, নীথিরা, মানাখানা, নশাসন, ভুমখারা, ভোজেশ্বর, কালাইখার কান্দি, মাদবর কান্দি, বাঘিয়া, কোটাপাড়া, বালাখানা, প্রেমতলা, ডোমসার, শৌলপাড়া, লাকার্তা, পাপরাইল গ্রামগুলোসহ প্রায় ৩০টি গ্রামের অন্তত এক হাজার পরিবারে ১০ হাজারের বেশি নারী-পুরুষ রোববার সকালে নামাজ শেষে সেমাই ও শিরনি খেয়ে ঈদ আনন্দে মেতেছেন।


সুরেশ্বর পীরের বর্তমান গদিনসিন মুতাওয়াল্লী সৈয়দ কামাল নুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করি। এবার অন্তত ১০ হাজার মুরিদ আমাদের সঙ্গে ঈদ পালন করছেন।


সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ধরমপাশা উত্তরপাড়া গ্রামে আজ সকাল নয়টার দিকে ঈদুল আজহার প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়।


দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ১৫ গ্রামের মানুষ ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন। রোববার সকাল সাড়ে ৮টায় উপজেলার খয়েরবাড়ি-মির্জাপুর দাখিল মাদরাসা মাঠ ও আয়ড়া নুরুল হুদা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা মাঠে ঈদের জামাত হয়। দুই জামাতে ১৫ গ্রামের প্রায় একশ মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। 


খয়েরবাড়ি-মির্জাপুর দাখিল মাদরাসা মাঠে নামাজে ইমামতি করেন মো. দেলোয়ার হোসেন কাজী। তিনি বলেন, প্রচারণা কম হওয়ায় ও সড়কে কাদা থাকায় গতবারের তুলনায় এবার মুসল্লির সংখ্যা কিছুটা কম ছিল।


বিরামপুর থানার ওসি মো.মনিরুজ্জামান মনির বলেন, আগাম ঈদের জামাতে যাতে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা না ঘটে সেজন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ বলারদিয়ার আজিম উদ্দিন মাস্টারের বাড়ি জামে মসজিদ মাঠের ইমাম মাওলানা আজিম উদ্দিন বলেন, আমার পেছনে ১৩টি গ্রামের পাঁচ শতাধিক মুসল্লি ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন।


দক্ষিণ বলারদিয়ার আজিম উদ্দিন মাস্টারের বাড়ি জামে মসজিদ সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার দক্ষিণ বলারদিয়ার আজিম উদ্দিন মাস্টারের বাড়ি জামে মসজিদ মাঠে প্রতিবছরের মতো এ বছরও মুলবাড়ি, বলারদিয়ার, সাতপোয়া, সাঞ্চারপাড়, পঞ্চপীর, পাখাডুবি, বালিয়া, বনগ্রাম, হোসনাবাদ ও বাউসী, পুঠিয়ারপাড়, বগারপাড়, পাটাবুগা ১৩টি গ্রামের পাঁচ শতাধিক মানুষ ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন। অন্যদিকে, মহাদান ইউনিয়নের বনগ্রাম ও উচ্চ গ্রামে ঈদুল আজহার আরও দুটি জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে।


বলারদিয়ার গ্রামের শাহা আলী (৬১) বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে আমরা ১৫ বছর ধরে ঈদুল আজহার নামাজ পড়ে আসছি।


মৌলভীবাজারে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল আজহার নামাজ পড়েছেন শতাধিক পরিবারের মুসল্লি। আজ রোববার সকাল সাড়ে সাতটায় মৌলভীবাজার শহরের সার্কিট হাউস এলাকার আহমেদ শাবিস্তা নামক বাসার ছাদে এই ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে ইমামতি করেন আলহাজ আব্দুল মাওফিক চৌধুরী।


সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুশখালী ইউনিয়নের বাউখোলা দক্ষিণপাড়ায় ঈদুল আজহার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রোববার সকাল সাড়ে সাতটায় অনুষ্ঠিত এ নামাজে মাওলানা মহব্বত আলী ইমামতি করেন। জামায়াতে বাউখোলা, সাতানি, ভাদড়া, নলতা, খুলনার ডুমুরিয়া, পাইকগাছাসহ পাঁচ গ্রামের শতাধিক মানুষ নামাজ আদায় করেন। মাওলানা মহব্বত আলী জানান, তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে যুগ যুগ ধরে ঈদের নামাজ আদায় করে আসছেন।


কুশখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম জানান, নামাজ শেষে স্থানীয় কয়েকটি পরিবার কোরবানিও দিয়েছেন।
পটুয়াখালীর ২২টি গ্রামের পাঁচ হাজারেরও বেশি পরিবার আজ রোববার ঈদুল আজহা উদ্যাপন করছে। প্রতিবছরের মতো এবারও সৌদি আরবের সঙ্গে সংহতি রেখে এ পরিবারগুলো ঈদুল আজহা উদ্যাপন করছেন।


পটুয়াখালীর সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের বদরপুর দরবার শরিফ জামে মসজিদে সকাল নয়টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বদরপুর দরবার শরিফে প্রধান ঈদের জামাতের ইমামতি করেছেন দরবার শরিফের ইমাম মাওলানা শফিকুল ইসলাম গনি। নামাজ শেষে দেশ ও জাতি এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। পরে পশু কোরবানি হতে দেখা গেছে। ১৯২৮ সাল থেকে প্রতিবছর তারা আগাম রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদ্যাপন করে আসছেন।


সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আজ রোববার শেরপুরের ছয়টি গ্রামে ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হচ্ছে। এসব গ্রাম হলো শেরপুর সদর উপজেলার চরখারচর পূর্বপাড়া ও পশ্চিমপাড়া, নকলা উপজেলার চরকৈয়া ও নারায়ণখোলা, ঝিনাইগাতী উপজেলার চতল এবং নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী মধ্যপাড়া। এ ছয়টি গ্রামের প্রায় দুই হাজার মানুষ আজ সকাল আটটা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে ঈদের নামাজ আদায় করেন।


শেরপুর সদর উপজেলার বেতমারী-ঘুঘুরাকান্দি ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম রফিকুল ইসলাম বলেন, চরখারচর পূর্ব ও পশ্চিমপাড়া ঈদগাহ মাঠে প্রায় এক হাজার মানুষ ঈদের নামাজ আদায় করেন। এসব গ্রামের মানুষ ৪৪ বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদ্যাপন করে আসছেন। তাঁরা ফরিদপুরের সুরেশ্বর পিরের অনুসারী বলে তিনি জানান।  

এই বিভাগের আরো খবর