বুধবার   ১৩ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ২৮ ১৪২৬   ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

অবৈধভাবে চলছে ‘পূর্ব ইসদাইর কল্যাণ সমিতি’, গ্রাহকরা আতঙ্কে

প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : সরকারি কোন দপ্তরের অনুমোদন ব্যতিরেকে ‘পূর্ব ইসদাইর কল্যাণ সমিতি’ নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করে আসছে কিছু ব্যক্তি। ফতুল্লার পূর্ব ইসদাইরে অনুমোদনহীন এ প্রতিষ্ঠানের সভাপতি দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন করানোর চেষ্টা করলে তা সম্ভবপর না হওয়ায় এখন গ্রাহকদের টাকা ফিরিয়ে দিতে চান তিনি। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের আরো কয়েক ব্যক্তির কারসাজিতে সেটি সম্ভবপর হয়ে উঠছেনা। যে কোন মুহুর্ত্বে ৬০ এর বেশি গ্রাহকের ২০ লাখ টাকা লোপাট হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

 

পূর্ব ইসদাইর কল্যাণ সমিতির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা হাজী মঞ্জুরুল আলম বলেন, ২০১৩ সালে আমরা এলাকার কয়েকজন মিলে পূর্ব ইসদাইর কল্যাণ সমিতি গড়ে তুলি। দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও আমরা কোন দপ্তর থেকে অনুমোদন নিতে পারেনি। অনুমোদন না নিতে পেরে আমি এবং সেক্রেটারি আবুল হোসেনের যৌথ নামে রূপালী ব্যাংকে ১০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কিনি। এছাড়া রূপালি ব্যাংকেই একটি চলতি হিসাব রয়েছে। যাতে আনুমানিক প্রায় ৩ লাখ টাকার মতো রয়েছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানের সদস্য সংখ্যা এখন প্রায় ৬০ এর বেশি। যেহুতু অনুমোদন নাই তাই চাচ্ছি সমিতিটি ভেঙে গ্রাহকদের জামানত ফিরিয়ে দিতে। কিন্তু সমিতির সেক্রেটারি রূপালী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হোসেনসহ আরো ৩ জন এক্সিকিউটিভি মেম্বার অবৈধভাবে এটি চালানোর পক্ষে। এক্সিকিউটিভ মেম্বার হিসেবে সুদি মুন্সি ডাক্তার, লোহালক্কর ইউসুফ এবং কেরানী কুতুবউদ্দিন সেক্রেটারি কাম ক্যাশিয়ারের সাথে যোগসাজসে এখনো গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে যাচ্ছে। যাতে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে না হয় সেজন্য তারা এক্সিকিউটিভ মেম্বার হাজী আমির হোসেনকেও বাদ দিয়েছে। অথচ বাদ দেয়ার আগে তাকে তিনবার চিঠিতে জানানোর কথা। কমিটির অন্য দুইজন এক্সিকিউটিভ মেম্বার মোশারফ হোসেন ও পূন্য অবৈধভাবে এই প্রতিষ্ঠান চালাতে রাজি নন। আমি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা বারিকের কাছে আমি এব্যাপারটি জানিয়েছি। বলেছি এখান থেকে আমি অব্যাহতি চাই। সমিতি ভেঙে দিয়ে সবাইকে টাকা বুঝিয়ে দিতে চাই। কিন্তু এরপরেও সেক্রেটারি নানা অনিয়ম করে অবৈধভাবে এটিকে চালাতে চাচ্ছে। নিরীহ গ্রাহকদের প্রত্যেকের এখানে ৫১ হাজার টাকা করে জামানত আছে। টাকার অঙ্কে তা প্রায় ২০ লাখ টাকার উপরে। যে কোন সময়ে তারা প্রতারিত হতে পারে। সেক্রেটারি কয়েকজন মিলে সমিতির নামে লুটে খাওয়ার চেষ্টা করছে।

 

পূর্ব ইসদাইর কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নেই কথাটি সঠিক। কিন্তু আমরা অনুমোদনের চেষ্টা করে যাচ্ছি। সভাপতিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো কিন্তু সেটি তিনি করেননি। এখন তিনি এই প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে চান। সমিতির বেশিরভাগ গ্রাহক চান সমিতিটা চলুক। কিন্তু সভাপতি ষড়যন্ত্র করছেন।’  

 

এব্যাপারে সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজমুল হুদা বলেন, ‘পূর্ব ইসদাইর কল্যাণ সমিতি’র নামে অবৈধভাবে একটি সমিতি গড়ে তোলা হয়েছে। তারা বেআইনীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এই মর্মে ইউএনও স্যার বরাবর একটি অভিযোগ এসেছে। তিনি আমাকে এটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন। আমি তদন্ত করেছি। প্রতিবেদন দেয়ার পর্যায়ে এটি রয়েছে। অনুমোদন দেয়া তো পরের বিষয়, এখন আগে এটি যে অবৈধভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে এই প্রতিবেদন দেয়ার পর ইউএনও স্যার যে সিদ্ধান্ত দেন সেটিই হবে। পরে তো অনমোদন প্রসঙ্গ।’ 

এই বিভাগের আরো খবর