মঙ্গলবার   ২০ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৫ ১৪২৬   ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

অবিলম্বে শামীম ওসমানকে গ্রেপ্তার করতে হবে : হালিম আজাদ

প্রকাশিত: ৯ জুন ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব ও নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হালিম আজাদ বলেছেন, ত্বকীকে হত্যা করার পরে আমরা যখন লাশ নিয়ে এই শহরে মিছিল করছিলাম তখন নাসিম ওসমান তার ছেলে আজমেরি ওসমানকে ফোন করে বলেছিল, এই কাণ্ডটি কে করিয়েছে, এই ঘটনাটি কে ঘটিয়েছিল। 

 

তখন আজমেরি ওসমান বলেছিল, ছোট সাহেব। ছোট সাহেব মানে কে? শামীম ওসমান। শামীম ওসমানই ত্বকী হত্যার পকিল্পনাকারী। ত্বকীকে টর্চার করার পর যখন ওর মৃত্যু হয় তখন  আজমেরি ওসমানের গাড়িতে করে কুমুদিনির ভিতর দিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে ওকে ফেলে রাখা হয়েছিল। 

 

আমরা বারবার বলেছি এই হত্যাকাণ্ডের সাথে শামীম ওসমানের ছেলে  অয়ন ওসমান জড়িত। তাকে গ্রেপ্তার করা হোক, আজমেরি ওসমানকে গ্রেপ্তার করা হোক। এই খুনিরা এখনও নারায়ণগঞ্জে ঘুরে বেড়াচ্ছে। 

 

আমরা লক্ষ্য করছি প্রধান খুনি আজমেরি ওসমান যার টর্চার সেলে ত্বকীকে হত্যা করা হয়েছিল। ওই খুনির নামে দেখি প্ল্যাকার্ড করা হয়। শহরের বিভিন্ন পিলারে তা ঝুলিয়ে রাখা হয়। তখন দাঁড়ায় কী ?  তারা এ সব চোখে দেখেননা, আর আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রতিবেদন দেন তদন্ত চলছে ।

 

তদন্ত তো অনেক আগেই হয়ে গেছে। এখন খুনিদের গ্রেপ্তার করতে হবে। আজকের এই সভা থেকে আমরা আবারও বলছি, ওই আজমেরি ওসমানকে গ্রেপ্তার করা হোক। গ্রেপ্তার করা হোক অয়ন ওসমানকে। একই সাথে শামীম ওসমানকেও গ্রেপ্তার করা হোক। 

 

অবিলম্বে শামীম ওসমানকে গ্রেপ্তার করতে হবে। এই খুনি যখন জাতীয় সংসদে  ঢোকে সে সংসদের তখন আর মর্যাদা থাকেনা। এই শামীম ওসমান ত্বকীর প্রধানতম পরিকল্পনাকারী খুনি। 

 

শনিবার (৮ জুন) সন্ধ্যায় নগরীর আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তন প্রাঙ্গণে মেধাবী কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার ৭৫ মাস পূর্তি উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে ধারাবাহিক মোমশিখা প্রজ্বলন কর্মসূচীতে তিনি এ সব কথা বলেন।

 

সংগঠনের সভাপতি জিয়াউল ইসলাম কাজলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন,সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি , নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি হাফিজুর রহমান, শ্রমিক নেতা আবু নাইম খান বিপ্লব, সমমনার সভাপতি দুলাল সাহা, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি জাহিদুল হক দীপু, গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক তারিকুল সুজন প্রমুখ। 

 

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি প্রদীপ ঘোষ বাবু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনি সুপান্থ, শহুরে গায়েনের সমন্বয়ক শাহীন মাহমুদ, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ।

 

হালিম আজাদ  বলেন,  ত্বকীকে কারা হত্যা করেছিল, কীভাবে হত্যা করেছিল, এটা র‌্যাবের তদন্তের মধ্য দিয়ে জানা গেছে। র‌্যাবের কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলন করে সারা দেশবাসীকে জানিয়েছে। এটা নূতন কিছু নয়, এটা প্রতিষ্ঠিত। ৭৫ মাসেও কেন বিচার হচ্ছেনা সেটা হচ্ছে দেখার বিষয়। 

 

বিচার হচ্ছেনা এই কারণে আমরা লক্ষ্য করেছি এই ৭৫ মাসে খুনীরা যারা ত্বকীকে খুন করেছিল এবং ত্বকী হত্যার জন্য যে পরিকল্পনা করেছিল, সেই পরিকল্পনাকারী শামীম ওসমান, তার বড় ভাই নাসিম ওসমান। সেই নাসিম ওসমান পরপারে গিয়েছে। এই ঘটনাগুলো সূর্যালোকের মতো সত্য। 


র‌্যাব সংবাদ সম্মেলন করে দেশবাসীকে জানিয়েছে। নারায়ণগঞ্জে গত ছয় বছরে যতজন জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এসেছেন সবাইকে আমরা এ কথা জানিয়েছি। তাদেরকে জানানোর পরেও এই জেলা প্রশাসকরা, এই পুলিশ সুপাররা কোন কর্ণপাত করছেননা। 


তিনি আরও বলেন, আমাদের সন্তানের হত্যার বিচারের ক্ষেত্রে তারা সঠিক তদন্ত এবং চার্জশিট কোর্টে তারা দাখিল করছেননা। এর অর্থ কী এই পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসন বার বার হত্যাকারীদের কাছে মাথা নত করছে। 


তারা জনগণের সেবক হয়েও এই নারায়ণগঞ্জে এসে প্রতিজন জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এই খুনি ওসমান পরিবার, এই শামীম ওসমান গংদের কাছে মাথা নত করে ত্বকী হত্যার বিচার করছেনা।  


তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকের প্রতি মাসে যে একটা আইন শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠক হয় সেই বৈঠকের মধ্যেও আমি বহুবার দেখেছি। আমি যখন নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি ছিলাম প্রতিটা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় আমি উপস্থিত হয়েছি। 


তখন দেখেছি জেলা প্রশাসকের আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রতিটা চাঞ্চল্যকর হত্যার প্রতিবেদন দেওয়া হয়। প্রতিবারই ত্বকী হত্যার ঘটনাকে ১২/১৩ নম্বরে ফেলে বলা হয় তদন্ত চলছে। আসলে কোনোই তদন্ত চলছেনা।


ত্বকীর হত্যাকরী যখন সংসদে ঘুরে বেড়ায়  আমাদের প্রধানমন্ত্রী তখন দেখেন না। এবং এই প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেছেন তিনি ওসমান পরিবারের পক্ষে আছেন, ওসমান পরিবারকে দেখবেন। একটা দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন সংসদে খুনি নিয়ে আলোচনা করে তখন সেই সংসদের কেনো মর্যাদা থাকেনা। 


সেই সংসদ হায় হায় করতে থাকে এবং শোক বেদনায় মর্মাহত হয়ে যায়। এই মর্মাহত বেদনা শেখ হাসিনার কর্ণে পৌঁছছে না। শেখ হাসিনা ত্বকীর খুনিকে নিয়ে সংসদে বৈঠক করে। এই শেখ হাসিনা যতদিন ত্বকীর হত্যাকারী নিয়ে বৈঠক করবে ততোদিন সংসদের মর্যাদা ফিরে আসবেনা।


হালিম আজাদ বলেন, আমি আবারও বলছি ত্বকীর সকল হত্যাকারী ওই আজমেরি ওসমান, অয়ন ওসমান এবং পরিকল্পনাকারী শামীম ওসমানকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিতে হবে। আমরা প্রশাসনের কাছে এই দাবি জানাচ্ছি।
 

এই বিভাগের আরো খবর