শুক্রবার   ২৯ মে ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ১৫ ১৪২৭   ০৬ শাওয়াল ১৪৪১

অদৃশ্য শত্রু করোনার বিরুদ্ধে আমাদের জিততে হবে

প্রকাশিত: ৮ এপ্রিল ২০২০  

রণজিৎ মোদক : অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীর যুদ্ধ। এ যুদ্ধ কোন রাজ্য বা সিংহাসন জয়ের জন্য নয়। এ হচ্ছে জীবন-মরণ যুদ্ধ। এক কথায় বাঁচার যুদ্ধ। সভ্যতার যুগে আমরা আজ কোন সিড়িতে দাঁড়াবো।


 দিকে দিকে যখন বিশ্বের পরাশক্তিগুলো নিজেদেরকে শ্রেষ্ঠ শক্তিধর বলে প্রমাণের প্রতিযোগিতায় দিবা-রাত্রি শক্তি সাধনায় ব্যস্ত। ঠিক তখনই অদৃশ্য এক অপশক্তি করোনা, বিশ্ববাসীকে আঘাত করছে। 

করোনা ভাইরাস এ পর্যন্ত প্রায় ৬৭ হাজার প্রাণ লুটে নিয়েছে। এ সব মৃতদেহ স্পর্শ করা পাপ হয়ে দাঁড়ায়। পিতার মৃতদেহ পুত্র ছুঁতে পারবে না আর পুত্রের মৃতদেহ পিতা ছুঁতে পারবে না। কি কঠিন এক মৃত্যু!


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের হিরোশিমায় একদিনে এটম বোমার আঘাতে ৭২ হাজার প্রাণ বলি হয়েছিলো। এর ছয় মাস পর আহতদের মধ্যে আরও ৭৬ হাজার প্রাণ মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে। কিন্তু করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মৃতদেহ স্পর্শ করাই বিপদ। 


শুধু তাই নয় মহাবিপদ। বিশ্বের ২০৫টি দেশের কোটি কোটি মানুষ আজ গৃহবন্দি। চারিদিকে মৃত্যুর মিছিল। প্রতিদিন পাল্টে যাচ্ছে পৃথিবীর রূপ। অস্ত্রবাজ, অর্থশালী, ধর্ণাঢ্য দেশ আজ অস্ত্র দিয়ে অর্থ দিয়ে রোধ করতে পারছে না করোনা নামের দৈত্যের গতিরোধ। 


তারপরও যে সব ডাক্তার-নার্স গতিরোধ কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের সাথে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ, সাংবাদিক, আনসার, রাজনীতিবিদ সহ সর্বস্তরের মানুষ মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে অকুতোভয় সৈনিকের ন্যায় সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আগামী বিশ্ববাসী তাদের কোথায় রাখবেন?


সংবাদমাধ্যম বলছে এ পর্যন্ত ১২ লক্ষ লোক করোনায় আক্রান্ত। আলো জ্বলমল শহরগুলো যেন প্রেতপূরীর রূপ নিয়েছে। কোটি কোটি মানুষ বেকার জীবনযাপন করছে। অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটছে। চোখে অন্ধকার দেখছে সংসারের কর্মক্ষম অভিভাবকবৃন্দ। এখানে কারো কিছুই করার নেই। 


প্রকৃতির অভিশাপ যখন নেমে আসে তখন অসহায়দের মতো অস্ত্রহীন সৈনিক যুদ্ধ ক্ষেত্রে মরণের প্রহর গুণে। কি আমরা আজ বিশ্ববাসী অভিশপ্ত করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে সবাই যুদ্ধে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। যে যেখানে আছে সেখানে থেকেই প্রতিরোধের দূর্গ গড়ে বিশ্ববাসীকে রক্ষার চেষ্টা করে যাচ্ছি। 


এ মহাযুদ্ধে আমাদের অবশ্যই জিততে হবে। ১৭২০, ১৮২০, ১৯২০ সালের মহাসংকট থেকে আমাদের পূর্বপুরুষ সংকট মোকাবেলা করেছেন। আমরাও ২০২০ সালের এ সংকটময় কালকে অতিক্রম অবশ্যই করবো।

আমাদের জন্মভূমি বাংলাদেশ। এ দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এই অজ্ঞাত শত্রু করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে মরণ জেনেও অকুতোভয়ে সৈনিকের ন্যায় যুদ্ধ করে যাচ্ছেন। অসহায় দেশবাসীকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। 


দেশের সামরিক বাহিনী, পুলিশ বাহিনী, র‌্যাব, সাংবাদিক, আনসার, পরিবহণ সেক্টর, জনপ্রতিনিধি, সরকারী কর্মচারী, বে-সরকারী সংস্থা, সামাজিক সংগঠন। তাছাড়া বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক, ফার্মেসী, সেবাশ্রমগুলো করোনা ভয়কে উপেক্ষা রাতদিন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। 


আর সেবা দিতে গিয়ে বেশকিছু ডাক্তার করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রাণ দিয়েছেন। ইতিহাসের অমর কাব্যে এদের নাম লেখা থাকবে। কলম সৈনিক বিশেষ করে মিডিয়া জগতের প্রতিটি সৈনিক জীবন বাজি রেখে সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশন করছেন। বিশ্ব মানব জাতির এই দুর্দিনে যারা যেখানে থেকে যুদ্ধ করছেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলবো-


“হে মহাযুদ্ধের মহাসেনানী    
তুমি যুগে যুগে বিশ্ব মানবের বন্ধু
তোমাকে সশ্রদ্ধ প্রণাম।”


ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র বলেছেন, “নিজে বাঁচে অপরকে বাঁচায়, ধর্ম বলে জানিস তাকে।” এক কথায় বলবো মানব সেবার উপর ধর্ম নাই। পৃথিবীর সমস্ত ধর্মে সত্যকেই তুলে ধরা হয়েছে। 


গৃহে থাকুন, হাত-মুখ পরিষ্কার রাখুন। করোনার হাত থেকে নিজে বাঁচার এবং অপরকে বাঁচার যে সব নিয়ম-কানুন পত্র-পত্রিকায় এমন কি মিডিয়ায় প্রকাশ করা হচ্ছে। সে সব নিয়ম মেনে চলুন। জ্বর-সর্দি ঠান্ডা হলে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন। নিজেরা সাবধান থাকুন। 

শিশু ও বৃদ্ধদের প্রতি যত্ন নিন। যে যে ধর্মের অনুসারী হউন সেই পথ ধরে মহা বিপদ থেকে পরিত্রাণের জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থণা করুন। ঈশ্বর মঙ্গলময়, তিনিই সবার মঙ্গল করছেন। 


ইসলাম শব্দের অর্থ শান্তি। এক কথায় ইসলাম শান্তির ধর্ম। বিশ্ব মানবতা আজ এক পতাকাতলে এসে দাঁড়িয়েছে। বিজ্ঞানের বড় বড় মরণাস্ত্র বিশ্ববাসীকে শুধু ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে পারে, শান্তি দিতে পারে না। শান্তি হচ্ছে ঈশ্বরের পথ, সেবার পথ। 


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যে যেখানে আছেন সেখান থেকেই আত্মমানবতার সেবায় এগিয়ে আসুন। তিনি একজন সম্বলহীন পথের ভিখারী থেকে শুরু করে শ্রমিক, শিল্পপতি, সবার কথা ভেবে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন। এসব অর্থ যেন যথাযথভাবে বিতরণ করা হয়। 


এ বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি রাখতে হবে। কারণ আমরা ধামরাই থেকে ২৭টি সিলিং ফ্যান চুরির ঘটনা পত্রিকায় জেনেছি। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস রয়েছে, তাই আমরা করোনাকে ভয় করবো না। 


করোনার বিরুদ্ধে এ যুদ্ধে আমাদের জয়ী হতেই হবে। মহা মহাবিপদ আমাদের ওপর এসেছে। আমরা সেইসব বিপদকে ধৈর্য্য ও সাধনায় পরাভূত করেছি। এ যুদ্ধেও আমরা জয়ী হবো।

লেখক-
রণজিৎ মোদক
শিক্ষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট
সভাপতি, ফতুল্লা রিপোর্টার্স ক্লাব
ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।
মুঠোফোন ০১৭১১৯৭৪৩৭২