রোববার   ১৮ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৩ ১৪২৬   ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

 মাদক ব্যবসায়ী আরজু মাদক সেবন করে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে 

প্রকাশিত: ১২ জুন ২০১৯  

সিদ্ধিরগঞ্জ (যুগের চিন্তা ২৪) : সিদ্ধিরগঞ্জে ঈদে বন্ধুদের সাথে অধিক মাদক সেবনের ফলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭’দিন ধরে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে সোনামিয়া বাজার এলাকার চিহৃত মাদক ব্যবসায়ী আসামী আরজু মিয়া। 


মাদক ব্যবসায়ী আরজুর ফুফু আসমা বেগম জানান, বন্ধুরা পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে আরজুকে চোলাই মদসহ অধিক পরিমানে মাদক সেবন করিয়েছে। যার ফলে আরজুর সাথে যারা মাদক সেবন করেছে তারা সুস্থ্য হলেও এখনো মৃত্যু পথযাত্রী আরজু।

 

এ বিষয়ে আরজু’র পরিবার সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অভিযোগ করবেন বলে জানান। বিষয়টি সিদ্ধিরগঞ্জ সোনামিয়া বাজার, সুমিলপাড়া আইলপাড়া এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পবিত্র ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে আরজু তার মাদকসেবী সহযোগীদের নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ সোনামিয়া বাজার, নতুন বাজার ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে নিরব চাঁদাবাজি করেন। ইদের সালামী, লাইটিং, ডিজে পার্টি ইত্যাদির নাম দিয়ে তাদের চাঁদাবাজিতে ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ থাকলেও মুখ খুলে কিছু বলেনি। 

 

ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে উত্তোলনকৃত চাঁদা দিয়ে জামাল ভান্ডারীর ছেলে আরজু তার বন্ধু সুমিলপাড়া এলাকার মোফাজ্জল হোসেন মুন্সীর ছেলে শাকিল, হবিউল্লাহ কষাইয়ের ছেলে একাধিক মামলার আসামী বাবু, একাধিকবার গ্রেফতার সাজুর ছেলে মাদক ব্যবসায়ী রনি, পইক মজিবরের ছেলে মাদকের ডিলার নাহিদ, সোনামিয়া বাজারের রাজু, আবু তাহেরে ছেলে সালামসহ আরো কয়েকজন মিলে ইদের পরের দিন রাতে আদমজী বিহারী কলোনীর ভিতরে মাদকের হাট বসায়। 

 

সেখানে তারা ফেনসিডিল, ইয়াবা এবং পরবর্তিতে চোলাই মদ সেবন করে।  অধিক পরিমানে মাদক সেবনের ফলে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে আরজু, শাকিল, বাবু, রনি, নাহিদ, রাজু, সালাম। অসুস্থ্য অবস্থায় আরজু, শাকিল, নাহিদ, রনি, রাজুকে স্থানীয় আফিল জেনারেল হামপাতালে ভর্তি করা হয়। 

 

সেখানে শাকিল, নাহিদ, রনি, রাজু কিছুটা সুস্থ্য হয়ে উঠলেও খারাব অবস্থার দিকে যেতে থাকে আরজু। তখন তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার পরিক্ষা করে দেখতে পান আরজু অধিক পরিমানে চোলাই মদ সেবন করার কারনে সে গুরুত্বর অসুস্থ্য হয়ে গেছে। ধীরে ধীরে আরজুর পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে বলে ডাক্তার তার আতœীয়দের অবহিত করেছেন। 

 

এদিকে আরজুর ফুফু আসমা বেগমের অভিযোগ, আরজু’র বন্ধুরা পরিকল্পিতভাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই আরজুকে প্রচুর পরিমানে মাদক সেবন করিয়েছে। অধিক মাদক সেবনের কারনে আরজু গুরুত্বর অসুস্থ্য হয়ে আজ মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। তা নাহলে আরজুর সাথে অন্যান্যরাও মাদক সেবন করেছে। সকলেই সুস্থ্য থাকলেও আরজুর অবস্থা খারাপ কেন।

 

তিনি আরো জানান, এ বিষয়ে তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় তার বন্ধুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করবেন। ইতিপূর্বে অধিক পরিমানে মাদক সেবন করিয়ে গোদনাইল এসও এলাকার এক তেল ব্যবসায়ীকে হত্যা করে তার বন্ধুরা। ঠিক একই কায়দায় আরজুকেও মাদক সেবন করানো হয়েছে বলে আরজুর পরিবারের লোকজন জানান। 

 

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তবে কেহ অভিযোগ দিলে তিনি অবশ্যই তা গ্রহন করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

 

অভিযোগ রয়েছে আরজু ও নাহিদ ইয়াবার ডিলার। সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার ইয়াবা তারাই সাপ্লাই দেয়। আরজু সোনামিয়া বাজারের জাকিরের বাড়ীর ভাড়াটিয়া অপরদিকে নাহিদের পিতা পইক মজিবর। নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা। তারাই সেনামিয়া বাজার ও নতুন বাজার এলাকায় মাদক সাপ্লাই দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 


এ ছাড়াও তারা চাদাবাজি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। তাদেরকে সেল্টার দেয় সুমিলপাড়া এলাকার মোফ্ফাজল হোসেন মুন্সীর ছেলে মাদক ব্যবসায়ী শাকিল। 


অপরদিকে আদমজী ইপিজেড ব্যবসায়ী আল-আমিনের ব্যবসায়ী প্রতিষ্টানে চাদার দাবীতে হামলা চালিয়েছিলো হবিউল্লাহ কষাইয়ের ছেলে বাবু। তার বিরুদ্ধে রয়েছে অসংখ্য অভিযোগ। 


সজুর ছেলে রনি মাদক মামলায় একাধিকবার গ্রেফতার হলেও অদৃশ্য শক্তির বলে আবার বেরিয়ে এসে মাদক ব্যবসা শুরু করে। তার বিরুদ্ধেও রয়েছে একাধিক মামলা। 


অন্যদিকে রাজু, ছালাম এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী বলে জানা গেছে। তাদের কারনে এলাকাবাসী অতিষ্ট।
 

এই বিভাগের আরো খবর